গ্রামের স্কুলে ফিরতে চান শহরের শিক্ষকেরা, সমবণ্টন নিশ্চিত করতে বদলি নীতিতে বদলের ভাবনা সরকারের

গ্রামের স্কুলে ফিরতে চান শহরের শিক্ষকেরা, সমবণ্টন নিশ্চিত করতে বদলি নীতিতে বদলের ভাবনা সরকারের

দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া এবং গ্রামীণ স্কুলগুলোতে চরম শিক্ষক সংকটের অবসান ঘটাতে এবার নড়েচড়ে বসছে রাজ্য সরকার। ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’ বন্ধ থাকায় স্কুল স্তরে শিক্ষক বদলি পুরোপুরি থমকে রয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং শহরের চেয়ে গ্রামে শিক্ষকতার সুযোগ দিতে রাজ্য সরকারের কাছে এক অভিনব দাবি জানিয়েছে শিক্ষকদের একটি বড় সংগঠন। শহর থেকে কোনো শিক্ষক স্বেচ্ছায় গ্রামে যেতে চাইলে তাঁর আবেদন যেন নিঃশর্তে মঞ্জুর করা হয়, এমনটাই দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষক বণ্টনে চরম বৈষম্য এবং আইনি জটিলতা

রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ও পড়ুয়ার অনুপাতে এক চরম অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। খোদ কলকাতাতেই এমন কিছু স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোনো স্কুলে মাত্র ৩৫০ জন পড়ুয়ার জন্য ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। অপরদিকে, গ্রামের দিকে আড়াই হাজার পড়ুয়ার জন্যও মিলছে না পর্যাপ্ত শিক্ষক। বিগত দিনে পোর্টালের মাধ্যমে বহু শিক্ষক গ্রাম থেকে শহরে চলে আসায় এবং ২০১৬ সালের শিক্ষক প্যানেল আইনি জটিলতায় বাতিল হওয়ায় গ্রামীণ স্কুলগুলোতে এই শিক্ষক ঘাটতি আরও প্রকট রূপ ধারণ করেছে।

সরকারি স্তরে তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

শহরের বেসরকারি স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লেও, গ্রাম ও মফস্বলের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি স্কুলগুলোই এখনও প্রধান ভরসা। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। সম্প্রতি বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা দফতরের কর্তাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকেও গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষক সংগঠন ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র পক্ষ থেকে দ্রুত অনলাইন বদলি প্রক্রিয়া চালু করার পাশাপাশি শিক্ষকের সমবণ্টন নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষেই জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে শহর থেকে গ্রামে শিক্ষকদের স্থানান্তরের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক পদের সমবণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে, যা গ্রামীণ স্কুলগুলোর পঠনপাঠনের ভোলবদল ঘটাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *