ফলতায় বইছে তীব্র গেরুয়া ঝড়, বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের ঐতিহাসিক পথে বিজেপি

ফলতায় বইছে তীব্র গেরুয়া ঝড়, বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের ঐতিহাসিক পথে বিজেপি

ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সমস্ত বুথফেরত সমীক্ষাকে পেছনে ফেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের ঐতিহাসিক পথে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। অন্যদিকে, ভোটের আগেই নিজেকে ‘পুষ্পারাজ’ বলে দাবি করা তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান কার্যত রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ভোটগণনা শুরু হতেই প্রথম থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী, যার ফলে ফলতা জুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গেরুয়া আবির খেলার উৎসব।

ভোটের ফল ও বিরোধীদের উত্থান

চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১ রাউন্ড গণনার মধ্যে ১৪ রাউন্ডের শেষেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা ৯৪,৪৬০টি ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছেন। তিনি বর্তমানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে লিড ধরে রেখেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, গণনার শেষে এই জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মির নাম, যিনি ৩২ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, শাসকদলের ভোটবাক্স কার্যত শূন্য করে ষষ্ঠ রাউন্ডের পরেই চতুর্থ স্থানে নেমে যান তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান, তাঁর প্রাপ্ত ভোট মাত্র সাড়ে চার হাজারের সামান্য বেশি।

পরাজয়ের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের এই অভাবনীয় বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতা। ফলতা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের প্রধান চালিকাশক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপনির্বাচনের প্রচারে দেখা যায়নি। এছাড়া, ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার সঙ্গে জাহাঙ্গির খানের প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং বিতর্কিত মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০১৬ সালের মূল নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল, যা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দেয়।

এই ফলের জেরে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফলতায় দীর্ঘদিনের একাধিপত্যের অবসান ঘটল। বিজেপির এই জয় শুধু যে তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করবে তাই নয়, পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানে সিপিআইএমের উঠে আসা রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *