ভুটানের বৃষ্টিতে বানভাসি আলিপুরদুয়ার, ভেঙে পড়ল ১০টি সাঁকো, বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম

ভুটান পাহাড়ে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা তোর্ষা, কালজানি, বাসরা, মুজনাই ও পানা নদীর জলস্তর একধাক্কায় মারাত্মক বেড়ে যাওয়ায় জেলার অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সাঁকো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। এর ফলে জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু গ্রাম এখন বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। কোথাও নৌকা এখন একমাত্র ভরসা, আবার কোথাও যাতায়াতের সব পথ বন্ধ। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এই আকস্মিক দুর্যোগে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ডুয়ার্সের মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে।
বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন
আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তপসিখাতা ও উত্তর চকোয়াখেতি এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র জলস্রোতে ভোররাতেই দুটি বড় সাঁকো ভেঙে পড়ে। ফলে ঘুম থেকে উঠেই গ্রামবাসীরা নিজেদের যোগাযোগহীন অবস্থায় আবিষ্কার করেন। প্রশাসন সাময়িকভাবে নৌকার ব্যবস্থা করলেও উত্তাল নদীতে পারাপার করতে গিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই দুই এলাকার মানুষকে আগামী কয়েক মাস দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। অন্যদিকে, কালচিনি ব্লকে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বাসরা ও পানা নদীর জলস্ফীতি ঘটে, যার ফলে ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা বাগান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জয়গাঁ ও কালচিনির থেকে। এছাড়া জয়গাঁর একাধিক ওয়ার্ড এবং পুরোনো হাসিমারার রাস্তাঘাট বর্তমানে জলমগ্ন। কালচিনির বিভিন্ন এলাকায় নিকাশি নালা উপচে মানুষের ঘরে জল ঢুকে পড়েছে।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
এই দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে। ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও এলাকায় মুজনাই নদীর ওপর থাকা চারটি বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় জটেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাটে চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। বঙ্কিমঘাটের পাকা সেতুর পাশে তৈরি অস্থায়ী ডাইভারশনটি ভেঙে যাওয়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। পরবর্তীতে জেলা শাসক ও প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অর্ধনির্মিত পাকা সেতুর ওপর লোহার পাত বিছিয়ে সাময়িকভাবে হেঁটে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। তবে নিয়াশার ঘাটের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তি কমেনি। বর্তমানে নদীর জলস্তর কিছুটা কমলেও আকাশের মুখভার থাকায় নতুন করে বিপদের আশঙ্কায় দিন গুনছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।