ফলতায় গেরুয়া ঝড়, অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

ফলতায় গেরুয়া ঝড়, অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেছে। রবিবারের ভোটগণনায় এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। এই জয়ের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হতেই বিজেপি প্রার্থী প্রথম থেকেই জয়ের ব্যবধান বাড়াতে থাকেন, যা শেষ পর্যন্ত এক লক্ষ আট হাজার ভোট ছাড়িয়ে যায়।

তৃণমূলের মডেলকে তীব্র কটাক্ষ

নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে ব্যঙ্গ করে সেটিকে ‘তৃণমূলের হার-বার মডেল’ বলে উল্লেখ করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে ‘বাঘছাল পরিহিত বিড়াল’ এবং ‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, অতীতে এই কেন্দ্রে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে ভোট করানোর কারণেই তৃণমূল দেড় লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ায় এই আসল বাস্তব সামনে এসেছে এবং আগামী দিনে তৃণমূলের লড়াই ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরাজয়ের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফলাফল রাজ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়সড় বদল আনতে পারে। তৃণমূল জমানার তথাকথিত ‘সরকারি ধন লুঠ’, ‘তোলাবাজি’, ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের সুযোগ পেয়ে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই পরাজয়ের ফলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির অবস্থান আরও মজবুত হবে এবং তা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *