মমতার মাস্টারস্ট্রোকে কি এবার আরও চাঙ্গা হবে ঘাসফুল শিবির!

আগামী লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ধাপে ধাপে দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চারপাশের তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও নিজের দুর্গ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কামারহাটিতে বিপুল ভোটে জয়লাভের পুরস্কার পেলেন তৃণমূলের ‘কালারফুল’ বিধায়ক মদন মিত্র। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মদন মিত্রকে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশ ও অনুপ্রেরণাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনেও বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দক্ষিণ কলকাতার যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীদীপ দাসকে। এই পদবদল নিয়ে বিদায়ী সভাপতি সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল যা ভালো মনে করেছে সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে, এ বিষয়ে তাঁর নতুন করে কিছু বলার নেই।
তৃণমূলের অন্দরে রদবদলের নেপথ্য কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাংগঠনিক রদবদলের পেছনে সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে। এতদিন দমদম ও ব্যারাকপুর—উভয় অঞ্চলের সংগঠনের গুরুদায়িত্ব একহাতে সামলাচ্ছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সম্প্রতি এক নাটকের মঞ্চে পার্থ ভৌমিকের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করতে দেখা যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। এই রাজনৈতিক সৌজন্য প্রকাশের আবহেই দমদমের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বভার মদন মিত্রের হাতে তুলে দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কামারহাটি বিধানসভায় নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ আগেই দিয়েছেন মদন মিত্র, আর এবার সেই জনপ্রিয়তাকে পুরো দমদম লোকসভা এলাকায় কাজে লাগাতে চাইছে দল।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই রদবদলের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ—কলকাতার দুই প্রান্তেই তৃণমূলের সংগঠনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে দমদমে মদন মিত্রের মতো অভিজ্ঞ ও চেনা মুখকে সামনে এনে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতায় শ্রীদীপ দাসের মতো নতুন মুখকে যুব সংগঠনের রাশ দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই নতুন সাংগঠনিক নেতৃত্ব বিরোধীদের মোকাবিলা করে দমদম ও দক্ষিণ কলকাতায় দলের রাশ কতটা শক্ত রাখতে পারে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।