নাবালিকা ও গৃহবধূকে বাংলাদেশে পাচার! পুলিশের জালে শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য

নাবালিকা ও গৃহবধূকে বাংলাদেশে পাচার! পুলিশের জালে শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য

উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে নারীপাচারের বাড়বাড়ন্ত রুখতে কড়া পদক্ষেপের মাঝেই এবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো। কোচবিহারের এক গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে পাচার করার অভিযোগে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য আনারুল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির পর ধৃত তৃণমূল নেতাকে বালুরঘাট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাসস্ট্যান্ড থেকে অপহরণ ও পাচারের ছক

তদন্তে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালে কোচবিহারের ওই বাসিন্দা গৃহবধূ এবং তাঁর নাবালিকা মেয়ে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একদল দুষ্কৃতী প্রথমে ওই মা ও মেয়েকে অপহরণ করে। এরপর গঙ্গারামপুরের এই প্রভাবশালী পঞ্চায়েত সদস্যের প্রত্যক্ষ মদতে তাঁদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়।

কারণ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে, শাসকদলের এই নেতার গ্রেফতারি যেন তা আবার প্রমাণ করল। স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক শিথিলতাকে কাজে লাগিয়েই এই পাচারচক্র বছরের পর বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন জেলা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই গ্রেফতারির ফলে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে যেমন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই পাচারচক্রের বাকি চাঁইদের খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে পুলিশ।

এক ঝলকে

  • মা ও নাবালিকা মেয়েকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার গঙ্গারামপুরের তৃণমূল নেতা আনারুল মিয়া।
  • গত ২০২৫ সালে কোচবিহারের ওই গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যা হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান।
  • হিলি বাসস্ট্যান্ড থেকে দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে তাঁদের অপহরণ করে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
  • ধৃত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে বালুরঘাট আদালতে পেশ করে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *