তৃণমূলের নামে দেদার তোলাবাজি! সাঁকরাইলের বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মী গ্রেফতার

হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায় বা তোলাবাজি করার অভিযোগে এক কর্মরত পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ওই পুলিশ কর্মীর নাম সাহিন মোল্লা ওরফে সানি, যিনি সাঁকরাইলের রঘুদেববাটি চক শ্রীকৃষ্ণ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, ধৃত সানি সাঁকরাইলের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অনুগামী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
ফাঁড়ি থেকে পুলিশ লাইন ও অপরাধের জাল
পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সাহিন মোল্লা প্রথমে সাঁকরাইলেরই মানিকপুর ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে সরিয়ে শিবপুর পুলিশ লাইনে হোম গার্ড হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার পরেও শাসকদলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় তাঁর তোলাবাজির কারবার রমরমিয়ে চলছিল বলে অভিযোগ। অবশেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁকরাইল থানার পুলিশ সক্রিয় হয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে নতুন প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরেই এই গ্রেফতারি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে খোদ আইনের রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছিলেন, এই ঘটনা তারই এক বড় প্রমাণ। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন উর্দির আড়ালে থাকা অপরাধীদের কাছে কড়া বার্তা যাবে, তেমনই এলাকার সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা পুনর্বহাল হবে।
এক ঝলকে
- তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় তোলাবাজি করার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- ধৃত সাহিন মোল্লা ওরফে সানি সাঁকরাইলের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
- ধৃত কর্মীটি প্রথমে মানিকপুর ফাঁড়িতে থাকলেও পরে তাঁকে শিবপুর পুলিশ লাইনে হোম গার্ডে পাঠানো হয়।
- দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাঁকরাইল থানা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।