সিবিএসই ফলাফলের পর তীব্র মানসিক উদ্বেগ, শহরের মনোবিদদের দরজায় পড়ুয়াদের ভিড়

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শহরের পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র মানসিক উদ্বেগ তথা ‘অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার’ দেখা দিয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর না পেয়ে অনেকেই মারাত্মক অবসাদে ভুগছে। ঠিকমতো ঘুম না হওয়া কিংবা আচমকা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে শহরের মনোবিদ ও চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় করছে বহু পরীক্ষার্থী। নামী হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, যেখানে সারাজীবন ৯০ শতাংশের ওপর নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারাও এবার মাত্র ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়ে ভেঙে পড়েছে।
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নম্বরের ঘাটতি
এ বছর ভুবনেশ্বর রিজিয়নের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা মিলিয়ে প্রায় ৯৩ হাজার ছাত্র-ছাত্রী সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের সিংহভাগের অভিযোগ, এবার আশাতীত নম্বর কমে গিয়েছে। এই সমস্যার মূলে রয়েছে সিবিএসই বোর্ডের প্রথমবার চালু করা অনস্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র স্ক্যান করে কম্পিউটারে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, যাদের হাতের লেখা কিছুটা অস্পষ্ট ছিল, স্ক্যান করার পর তা আরও ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষকরা হয়তো ঠিকমতো পড়তে পারেননি। ফলে নম্বর ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে।
ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ
নম্বর কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। কাঙ্ক্ষিত নম্বর না থাকায় অনেকেই পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারছে না, আবার কারও বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার স্বপ্ন থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে জীবনের শেষ ভেবে নিয়ে চরম হতাশায় ডুবছে ১৬-১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীরা। মনোচিকিৎসকদের মতে, একটি পরীক্ষার ফলাফলই জীবন শেষ করে দেয় না। নম্বর নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা অথবা প্রয়োজনে এক বছর বিরতি দিয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। মানসিক স্ট্রেস কমাতে পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক সময়ে খাওয়া এবং ঘরে বন্ধ না থেকে নিয়মিত শরীরচর্চা বা মর্নিং ওয়াক করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা, যা শরীরে মন ভালো রাখার হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।