তীব্র গরমে শুধু মেদবহুলরাই নন, বিপদের মুখে মেদহীনরাও!

তীব্র গরমে শুধু মেদবহুলরাই নন, বিপদের মুখে মেদহীনরাও!

দেশের একাধিক জায়গায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করেছে। এই অস্বাভাবিক গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কথা উঠলেই সাধারণত স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কথাই সামনে আসে। তবে চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, রোগা বা কম ওজনের মানুষও তাপপ্রবাহে সমানভাবে বিপদের মুখে পড়তে পারেন। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরাই বেশি দ্রুত ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাট, পেশি ও জলীয় পদার্থ সঞ্চয় না থাকলে হিট এগ্জশন, ডিহাইড্রেশন এমনকী প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকও দ্রুত আঘাত হানতে পারে।

ঝুঁকির নেপথ্যে কম ফ্যাট ও পেশির ঘাটতি

শরীরের চর্বি বা ফ্যাটকে অনেকেই শুধু ক্ষতিকর মনে করলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি ধরে রাখা এবং জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অত্যন্ত রোগা মানুষদের শরীরে শক্তির সঞ্চয় কম থাকে এবং দ্রুত ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি তৈরি হয়। তীব্র গরমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে ঘাম ঝরায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। কিন্তু শরীরে পর্যাপ্ত জল, নুন বা পুষ্টি না থাকলে খুব দ্রুত ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের শরীরে পেশির পরিমাণ কম—যেমন অতিরিক্ত ডায়েট করা ব্যক্তি, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ বা প্রবীণরা—তাঁরা দীর্ঘক্ষণ গরমে থাকলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ফলে মাথা ঘোরা, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়ে হিটস্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

দ্রুত ডিহাইড্রেশন ও ভুল ডায়েটের প্রভাব

কম ওজনের মানুষদের শরীরে জলীয় সঞ্চয় তুলনামূলক কম থাকায় অতিরিক্ত ঘামের কারণে খুব অল্প সময়েই সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। এর ফলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, পেশিতে টান ধরা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং বমিভাবের মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

পাশাপাশি, গরমকালে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য আচমকা কম খাওয়া, নুন এড়ানো বা অতিরিক্ত ডায়েট শুরু করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, খনিজ ও ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হলে গরম সহ্য করার ক্ষমতা আরও কমে যায়, যা সামগ্রিকভাবে শরীরকে দ্রুত ভেঙে ফেলে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে প্রবীণরা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যেসব প্রবীণ মানুষ রোগা, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক ক্ষমতা এমনিতেই হ্রাস পায়। তার ওপর যদি অপুষ্টি, কম পেশি কিংবা দীর্ঘদিনের কোনো অসুখ থাকে, তবে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে সুরক্ষিত থাকতে তেষ্টা না পেলেও নিয়মিত জল, ওআরএস বা ডাবের জল পানের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। গরমের সময় কঠোর ডায়েট এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা সুতির পোশাক ব্যবহার করা জরুরি। শরীর খারাপ লাগলে কোনো রকম অবহেলা না করে দ্রুত বিশ্রামের পাশাপাশি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *