ক্যারিবিয়ানে কি ফিরছে ঠান্ডা লড়াই, কিউবার পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি চিন ও রাশিয়ার!

ক্যারিবিয়ানে কি ফিরছে ঠান্ডা লড়াই, কিউবার পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি চিন ও রাশিয়ার!

কিউবার কমিউনিস্ট আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই তথা দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের চার্জ গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তিন দশক পুরনো এক ঘটনার জেরে ৯৪ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের আইনি পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে দুই বিশ্বশক্তি চিন ও রাশিয়া। আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে।

মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে বিমান ধ্বংস ও মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে চার্জ গঠন করায় ক্ষুব্ধ মস্কো ও বেজিং। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই প্রাক্তন বা বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা কার্যত রাজনৈতিক হিংসার শামিল। অন্যদিকে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিচার বিভাগকে হাতিয়ার করে কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করা উচিত। দুই দেশেরই দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অনৈতিক চাপ লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে।

সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সংঘাতের মূল সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনায়, যখন কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া ফিদেল-বিরোধীদের একটি বিমানকে গুলি করে নামায় কিউবার সেনা। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাউল কাস্ত্রোর নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে আমেরিকার দাবি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবাকে ‘মুক্ত’ করার হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক ‘কিউবান মিসাইল সংকট’-এর স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই চরম পর্যায়ে না পৌঁছালেও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আমেরিকার একাধিপত্যের বিরুদ্ধে চিন ও রাশিয়ার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিউবাকে কেন্দ্র করে এই নতুন সমীকরণের ফলে লাতিন আমেরিকার আমেরিকা-বিরোধী সরকারগুলি চিনের ও রাশিয়ার আরও কাছাকাছি চলে যেতে পারে, যা সমগ্র অঞ্চলের কূটনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *