জনগণনায় দরজা আটকাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা, বিপাকে সমীক্ষকরা

ভারত সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে শুরু হওয়া জনগণনার কাজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমে নজিরবিহীন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তৃণমূল স্তরের সমীক্ষকরা। রাজধানী দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকার একাধিক অভিজাত আবাসন ও বহুতলে বাসিন্দারা তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করছেন। বহু ক্ষেত্রে সমীক্ষকদের দেখেও ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও তাঁদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
অবিশ্বাসের আবহে থমকে কাজ
সমীক্ষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীদের মধ্যেই এই অসহযোগিতার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। নাগরিকরা মূলত তাঁদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সাইবার জালিয়াতি ও অনলাইন আর্থিক প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তথ্য ফাঁসের ভয় কাজ করছে শহুরে শিক্ষিত সমাজের মনে। এই অতিরিক্ত সচেতনতা এবং সমীক্ষকদের প্রতি একধরনের সামাজিক অবিশ্বাসই বর্তমান অচলাবস্থার মূল কারণ।
প্রভাব ও সুদূরপ্রসারী সংকট
শহরাঞ্চলের এই অনীহার বিপরীতে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে। সেখানে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সরকারি সাহায্যের আশায় সহজেই তথ্য দিচ্ছেন। তবে সমাজের একটি বড় অংশের তথ্য বাদ পড়লে সামগ্রিক জনগণনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঠিক তথ্য না মিললে ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণ বাধাগ্রস্ত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যেই ‘সেলফ অ্যানুমারেশন’ বা স্ব-মূল্যায়নের মতো ডিজিটাল বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে, তবে বর্তমান অবিশ্বাসের আবহে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।