আরশোলার আড়ালে ডিপ স্টেটের ফাঁদ, ভারতে জেন-জিকে উসকে সরকার বদলের বড় ছক!

ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এখন আর সীমান্তে নয়, বরং দেশের অন্দরে শুরু হয়েছে। এটি মূলত ন্যারেটিভ, অ্যালগোরিদম এবং সাইকোলজিক্যাল ম্যানুপুলেশনের ডিজিটাল যুদ্ধ, যেখানে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের যুবসমাজ বা জেন-জিকে। নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেভাবে যুবসমাজের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আচমকা সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক একই ধরণের আশঙ্কার মেঘ এখন ভারতের আকাশেও। দেশের মাটিতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা আরশোলা পার্টির আড়ালে আন্তর্জাতিক ‘ডিপ স্টেট’-এর অদৃশ্য কারসাজি ও রেজিম চেঞ্জের নকশা দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।
ক্ষোভের হাতিয়ার ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেম
এই সংকটের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ বা ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে পুঁজি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সুনির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরি করা হয় এবং রাতারাতি জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মের ফলোয়ার্স ও জনপ্রিয়তা দেশের শাসকদল বিজেপিকেও ছাড়িয়ে যায়। গোয়েন্দাদের মতে, এত কম সময়ে এমন বিশাল মুভমেন্ট কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে কাজ করছে একটি শক্তিশালী ভারতবিরোধী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। এই প্ল্যাটফর্মটি নিট প্রশ্নফাঁস, বেকারত্ব বা মূল্যবৃদ্ধির মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও শাসকদলের তীব্র বিরোধিতা এবং ‘গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে’ এমন প্রচার চালানো। এই আগুনে রাজনৈতিক হাওয়া দিতে শুরু করেছেন রাহুল গান্ধী ও মহুয়া মৈত্রের মতো বিরোধী নেতারাও।
নেপথ্যের চক্র ও সম্ভাব্য প্রভাব
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল হোতা অভিজিৎ দীপক নামের এক যুবক, যিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিম এবং মণীশ সিসোদিয়ার কোর টিমে দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজ করেছেন। দেশের প্রভাবশালী মহলের একাংশও এই আরশোলাদের সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছে, যা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল একটি দেশকে সরাসরি আক্রমণ করা আসাম্ভব বলেই এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার বদলের কৌশল নেওয়া হয়েছে। যুবসমাজের হতাশাকে হাতিয়ার করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়ে একটি ‘মানব অস্ত্র’ তৈরি করাই এই ডিপ স্টেটের মূল ধাঁচ। আরশোলা পার্টির এই ক্রমবর্ধমান গতিবিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে উঠছে।