দাবদাহে জ্বলছে সুন্দরবন, বাঘেদের বাঁচাতে এবার খাঁচায় ফ্যান ও বিশেষ ডায়েট!

তীব্র তাপপ্রবাহে রেকর্ড গড়ছে তাপমাত্রার পারদ। বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন এই গরম আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ তো বটেই, চরম সংকটে পড়েছে বনের অবলা প্রাণীকুলও। বিশেষ করে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের সুস্থ রাখতে এবং গরমের হাত থেকে বাঁচাতে এবার একগুচ্ছ নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বনদপ্তর। সুন্দরবনের ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা বাঘেদের জন্য শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচর্যা ও খাদ্যাভ্যাসে বড়সড়বদল।
সুরক্ষায় বিশেষ ফ্যান ও বাথ টাব
ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বর্তমানে দুটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। সম্প্রতি কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি বাঘের মৃত্যুর জেরে বাকি থাকা সদস্যদের সুরক্ষায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। পশু চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বাঘেদের খাঁচার সামনে দিনরাত চালানোর জন্য বসানো হয়েছে বিশাল আকৃতির স্ট্যান্ড ফ্যান, যাতে হাওয়া-বাতাসের কোনও ঘাটতি না হয়। রোদ ও গরম থেকে বাঁচাতে বাঘেদের থাকার ইনক্লোজারের মধ্যে কৃত্রিম ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও, বাঘেদের শরীর ঠান্ডা রাখতে সেখানে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বাথ টাব। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক উপায়ে স্নানের জন্য পুকুর তো রয়েছেই, এর বাইরেও দিনে দুবার পাইপের মাধ্যমে জল স্প্রে করে বাঘেদের শরীর ভালো করে ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বদলে গেল খাদ্যাভ্যাস
তীব্র গরমে বাঘেদের ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি রুখতে খাঁচার ভেতরে বড় বড় পাত্রে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঘের শরীরের ওজন বিবেচনা করে খাবারের মেনুতে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। এই সময়ে বাঘেদের সুস্থ রাখতে সাধারণ জলের পরিবর্তে ওআরএস (ORS) এবং ভিটামিন সি ট্যাবলেট মেশানো জল খাওয়ানো হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগের বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রের দুটি বাঘের সুরক্ষার্থেই এই অতিরিক্ত জলের ব্যবস্থা ও বড় বড় ফ্যানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
প্রভাব ও আশঙ্কার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে গরমের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বাঘেদের মতো বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণে ব্যাঘাত ঘটায় এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতীতে চরম আবহাওয়ার কারণে বন্যপ্রাণী মৃত্যুর নজির থাকায়, এবার আগেভাগেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বনদপ্তর। এই কৃত্রিম শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রিত ডায়েট বাঘেদের অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।