পুষ্পরাজের অবসান ঘটিয়ে ফলতায় ১ লক্ষেরও বেশি ভোটে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজেপি!

তৃণমূল কংগ্রেসের একদা দুর্ভেদ্য ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে তৈরি হলো নজিরবিহীন রাজনৈতিক ইতিহাস। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনে তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। ২১ রাউন্ড গণনার মধ্যে ২০ রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে প্রায় ১ লক্ষ ভোটের এক বিশাল ও অপরাজেয় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যা জেলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ভোট লুঠের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যালটের জবাব
গত ২৯ এপ্রিল মূল নির্বাচনের দিন একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপি ও বুথের ভেতর সন্দেহজনক পদার্থ পাওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয়। গত ২১ মে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৩৫টি কো ম্পা নির কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে কোনো রকম অশান্তি ছাড়া এই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কড়া প্রহরায় ভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বুথে আসেন এবং মোট ২.৩৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
তৃণমূলের মডেল বিপর্যয় ও রাজনৈতিক প্রভাব
এতদিন পর্যন্ত ফলতা আসনটিকে ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে নিজেদের সাংগঠনিক আধিপত্য ও শক্তির প্রধান প্রতীক হিসেবে দাবি করে আসছিল তৃণমূল শিবির। তবে রবিবারের গণনার ট্রেন্ড সেই রাজনৈতিক বয়ানকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে যে ভোটারদের প্রকৃত মনোভাব কেমন হতে পারে, ফলতার রায় তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। এই অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, অন্যদিকে বিজেপির নজর এখন চূড়ান্ত জয়ের ব্যবধানের দিকে।
এক ঝলকে
- ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে ২০ রাউন্ড শেষে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে জয়ের দোরগোড়ায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা।
- গত ২৯ এপ্রিল মূল নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।
- গত ২১ মে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৫টি কো ম্পা নির কঠোর প্রহরার মধ্যে কোনো অশান্তি ছাড়াই ফলতায় প্রায় ৮৭ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোট পড়েছিল।
- এই ফলাফলকে তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর পতন এবং মুক্ত ও নিরপেক্ষ ভোটে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় হিসেবে দেখছে বিজেপি।