মা ও সন্তানকে বাংলাদেশে পাচার, পুলিশের জালে শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য

মা ও সন্তানকে বাংলাদেশে পাচার, পুলিশের জালে শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য

কোচবিহারের এক গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য আনারুল মিঞাকে গ্রেফতার করেছে হিলি থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গঙ্গারামপুরের বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে ধরা হয়। ধৃত তৃণমূল নেতাকে বালুরঘাট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সীমান্ত জেলাগুলোতে নারী ও শিশু পাচার রোধে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যার ফলে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে এলাকায়।

ব্ল্যাকমেল ও সীমান্ত পারের ছক

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছরের এপ্রিল মাসে কোচবিহারের ওই গৃহবধূ তাঁর সন্তানসহ নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে পরিবারের কাছে ফোন আসে এবং গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালানোর কথা জানিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দেওয়ার পর পুলিশের দ্বারস্থ হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা দুলাল মিঞা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই গৃহবধূর পূর্ব সম্পর্কের সুবাদে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই মা ও মেয়েকে প্রথমে গঙ্গারামপুরে আনা হয় এবং পরে সীমান্ত এলাকার একটি সুসংগঠিত পাচারচক্রের সাহায্যে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই পুরো ষড়যন্ত্রের পেছনে তৃণমূল নেতা আনারুল মিঞা সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

উদ্ধার ও বড় চক্রের সন্ধান

পরবর্তীতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহযোগিতায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই মহিলা ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে এর আগেও দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল পান্ডা আনারুল মিঞা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। পুলিশ প্রশাসনের অনুমান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এর পেছনে আন্তঃসীমান্তের একটি বড়সড় আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে। ঘটনার মূল শিকড়ে পৌঁছাতে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে ধৃত তৃণমূল নেতাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে হিলি থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *