বাতিল বাসনপত্রেই বাজিমাত, পুরনো ছাঁকনি আর চামচেই বদলে যাবে আপনার অন্দরমহল!

রান্নাঘরের পুরনো ও বাতিল জিনিসপত্র ঘরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে থাকে অথবা ভাঙাড়ির দোকানে চলে যায়। তবে বর্তমান সময়ে আধুনিক অন্দরসজ্জায় এসেছে এক বড়সড় পরিবর্তন। একটুখানি সৃজনশীলতা আর বুদ্ধি খাটিয়ে এই বাতিল বাসনপত্র দিয়েই এখন বসার ঘর থেকে শুরু করে বারান্দা পর্যন্ত চমৎকারভাবে সাজিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। এই অভিনব পুনর্ব্যবহার বা ‘আপসাইক্লিং’ একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে তেমনই পরিবেশবান্ধব।
সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় রূপান্তর
রান্নাঘরের প্রতিদিনের চেনা জিনিসগুলো সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘরের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেমন, পুরনো ধাতব ছাঁকনি উল্টে তার ভেতরে বাল্ব লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পেনডেন্ট লাইট, যা থেকে নির্গত আলো ঘরে মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। কাঠের পুরনো বেলন দেওয়ালে সাজিয়ে তৈরি হচ্ছে নস্টালজিক ওয়াল আর্ট। ফুটো হয়ে যাওয়া স্টিলের গামলা চমৎকার ঝুলন্ত টব হিসেবে বারান্দায় লতানো গাছের শোভা বাড়াচ্ছে। আবার পুরনো হাতা সামান্য বাঁকিয়ে কাঠের বোর্ডে আটকে তৈরি হচ্ছে চাবি বা ছাতা ঝোলানোর অভিনব হুক।
এমনকি ডিম ফাটানোর হুইস্কের ভেতর রঙিন শুকনো ফুল গুঁজে টেবিল ভাস্কর্য কিংবা সাধারণ গোল আয়নার চারপাশে চামচ ও খুন্তি আঠা দিয়ে আটকে আকর্ষণীয় স্টেটমেন্ট পিস তৈরি করা সম্ভব। বাতিল স্টিলের গ্লাসে রং বা পাটের দড়ি জড়িয়ে তৈরি হচ্ছে টেবিল অর্গানাইজার এবং পুরনো চামচ-কাঁটাচামচ দিয়ে তৈরি উইন্ড চাইমের মৃদু শব্দ ঘরের একঘেঁয়েমি দূর করছে।
প্রভাব ও সচেতনতা
এই ধরণের গৃহসজ্জার মূল কারণ হলো আধুনিক মানুষের রুচিবোধের পরিবর্তন এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা। মানুষ এখন কৃত্রিম ও বাজারচলতি প্লাস্টিকের সামগ্রীর চেয়ে টেকসই এবং ব্যক্তিগত ছোঁয়া থাকা শিল্পকর্ম বেশি পছন্দ করছেন। এর ফলে ঘর সাজানোর খরচ যেমন একধাক্কায় অনেক কমে যাচ্ছে, তেমনই অপচয় হ্রাস পেয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ‘বেস্ট আউট অফ ওয়েস্ট’ বা বর্জ্য থেকে সেরা জিনিস তৈরির প্রবণতা অন্দরমহলের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে।