ডিটেনশন সেন্টার নয়, রাজ্যে তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার, বদলে যাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার ব্যবস্থা

ডিটেনশন সেন্টার নয়, রাজ্যে তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার, বদলে যাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার ব্যবস্থা

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই অনুপ্রবেশ সমস্যা রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এবার রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এই লক্ষ্যেই বাংলা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’। ডিটেনশন সেন্টারের বদলে এই নতুন পরিকাঠামোয় কীভাবে কাজ হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

হোল্ডিং সেন্টারের রূপরেখা ও পরিকাঠামো

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় থাকা কৃষক মান্ডি বা অব্যবহৃত স্কুল ভবনগুলোকে ব্যবহার করেই প্রাথমিক পর্যায়ে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রচলিত কোনো জেলের মতো বা কাঁটাতারে ঘেরা ডিটেনশন সেন্টার হবে না। তবে এই সেন্টারের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাবেন না। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে তাঁদের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই থাকতে হবে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে আসা অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা, এবং বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া অনুপ্রবেশকারীদের এই সেন্টারে রাখা হবে।

শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ গঠন করা হচ্ছে। সীমান্তে অবৈধভাবে পারাপারের সময় কেউ ধরা পড়লে তাঁর আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি সহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেই তথ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল’-এ আপলোড করা হবে।

সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তবে তাঁর নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারে থাকতে হবে। নাগরিকত্ব ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে এবং তাঁর তথ্য নির্বাচন কমিশন ও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে যাতে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি বা সরকারি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করা যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ার পরিবহণ খরচ রাজ্য সরকার প্রথমে বহন করলেও পরে তা কেন্দ্রের থেকে ফেরত পাওয়া যাবে, তবে হোল্ডিং সেন্টার পরিচালনার সমস্ত ব্যয় রাজ্য সরকারকেই করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *