দিল্লিতে একশো ছুঁইছুঁই আর কলকাতায় একশো পেরিয়েও এগারো, জ্বালানির দামে কেন এত ফারাক!

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির উত্তাপ এবার সরাসরি এসে লাগল ভারতের আমজনতার পকেটে। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান-আমেরিকা সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালীর কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার অবধারিত প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও। তেল বিপণন সংস্থাগুলি বাধ্য হয়েই গত নয়দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানির দামের এক বিশাল ব্যবধান সাধারণ মানুষকে অবাক করছে। যেমন, দিল্লিতে যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল বর্তমানে ৯৯.৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে কলকাতায় এর দাম দাঁড়িয়েছে ১১১ টাকা।
ভিন্ন রাজ্যের কর কাঠামোর তারতম্য
একই দেশে শহরভেদে এই দামের পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো রাজ্য সরকারগুলির আরোপিত করের হার। কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করার পর, প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব নিয়মে ভ্যাট (মূল্য সংযোজিত কর) এবং বিক্রয় কর চাপায়। যে রাজ্য যত বেশি কর বা সেস আদায় করে, সেখানে জ্বালানির দাম তত চড়া হয়। যেমন, দেশের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি কর আদায় করে থাকে। তারা পেট্রোলের ওপর ৩১ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি প্রতি লিটারে ৪ টাকা অতিরিক্ত ভ্যাট এবং ১ টাকা সড়ক উন্নয়ন কর নেয়। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গ পেট্রোলের ওপর ২৫ শতাংশ বা প্রতি লিটারে ১৩.১২ টাকা (যেটি বেশি) এবং সাথে কিলো লিটার প্রতি ১০০০ টাকা সেস ধার্য করে। অন্যদিকে দিল্লির ভ্যাটের হার তুলনামূলক কম (১৯.৪০ শতাংশ), যার কারণে সেখানে পেট্রোলের দাম অনেকটাই সহনীয়।
অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক এই সংকটের জেরে গত ১৫ মে থেকে ২৩ মে-র মধ্যে দেশের তেল কো ম্পা নিগুলি পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজি-র দাম দফায় দফায় তিনবার বৃদ্ধি করেছে। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পরিবহণ খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবহণ ব্যয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কাঁচামালের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।