জাহাঙ্গীর-জমানা অতীত হতেই ফলতায় মাথা তুলল বামেরা! এক দশক পর বাংলায় ‘সেকেন্ড বয়’ সিপিএম

জাহাঙ্গীর-জমানা অতীত হতেই ফলতায় মাথা তুলল বামেরা! এক দশক পর বাংলায় ‘সেকেন্ড বয়’ সিপিএম

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ভোট লুট ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ কাটিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে অবাধ ভোট হতেই ফলতায় সম্পূর্ণ উল্টে গেল চেনা চিত্র। বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে প্রথম স্থান দখল করেছে বিজেপি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে সিপিএমের ফলাফল। দীর্ঘ এক দশক পর এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা, আর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছিটকে গেছে চতুর্থ স্থানে।

অবাধ ভোট ও জাহাঙ্গির-যুগের অবসান

স্থানীয় সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ফলতায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন না। তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খানের অনুগামীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ ছিল। এমনকি এবারের মূল নির্বাচনেও ইভিএম মেশিনে পদ্ম প্রতীকের ওপর টেপ আটকে দেওয়া কিংবা সুগন্ধি আতর লেপে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ ওঠে।

এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় ভোট হতেই দেখা যায় ভিন্ন ছবি। গণনা চলাকালীনই পরাজয় নিশ্চিত বুঝে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী ৮৫,১৭২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন এবং সিপিএম প্রার্থী ৩৫,৩২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানটি ছিনিয়ে নিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফলাফল রাজ্যের আগামী রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হতো, অবাধ ভোট হতেই তা বড়সড় ধাক্কা খেল। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম ফলতায় দ্বিতীয় স্থান ফিরে পেল বামেরা।

এই ফলাফলের দুটি প্রধান কারণ ও প্রভাব স্পষ্ট। প্রথমত, ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে সাধারণ মানুষ যে শাসকদলের ওপর তাদের ক্ষোভ উগরে দিতে প্রস্তুত, তা প্রমাণিত হলো। দ্বিতীয়ত, রাজ্যে বিজেপির জয়ের পাশাপাশি বামেদের ভোটব্যাঙ্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিমুখী রাজনৈতিক লড়াইকে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *