কানে ইতিহাস গড়ল নেপালি ছবি, অভিনাশের সৃষ্টিতে মুগ্ধ অনুরাগ কাশ্যপ থেকে বিশ্বমঞ্চ

কান চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে গত ২২ মে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথমবারের মতো ‘আঁ সার্তে রিগার’ (Un Certain Regard) বিভাগে নির্বাচিত হয়েই বাজিমাত করল নেপালি ছবি ‘Elephants in the Fog’। মর্যাদাপূর্ণ জুরি পুরস্কার জিতে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নেপালের চলচ্চিত্রকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন পরিচালক অভিনাশ বিক্রম শাহ। মূল প্রতিযোগিতার সমান্তরালে চলা এই বিভাগটি নতুন নির্মাতা এবং ভিন্নধর্মী গল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। পাম দ’ওরের পর কানের দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই মঞ্চে নেপালি সিনেমার এই জয়যাত্রা দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্রের জন্যও এক বড় প্রাপ্তি।
ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সংগ্রাম ও বিশ্বমঞ্চের স্বীকৃতি
ছবিটির মূল চালিকাশক্তি এর সংবেদনশীল ও বাস্তবধর্মী কাহিনি। নেপালের ‘মেতি’ নামের এক ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রাম, সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতার লড়াই এবং মানসিক টানাপোড়েনকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। গত ২০ মে কানের প্রিমিয়ারেই ছবিটি দর্শকদের গভীরভাবে আপ্লুত করে। প্রদর্শনী শেষে হলভর্তি আন্তর্জাতিক দর্শক প্রায় আট মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে ছবিটিকে সম্মান জানান। ছবির অন্যতম প্রযোজক প্যাট্রিক সুবেদি এই অর্জনকে পুরো দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অনুরাগ কাশ্যপের প্রশংসা ও চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ প্রভাব
নেপালি সিনেমার এই যুগান্তকারী সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। ছবিটির তীব্র প্রশংসা করে তিনি জানান, এবারের কান উৎসবে তাঁর দেখা সেরা ছবিগুলোর মধ্যে এর শেষ দৃশ্যটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতা পুষ্পা থিং লামার অভিনয় বিশ্বমঞ্চে আলাদাভাবে নজর কেড়েছে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেপালের মতো ছোট দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বৈশ্বিক স্তরে গল্প বলার সাহস জোগাবে। একই সাথে মূলধারার সিনেমায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন তুলে ধরার যে প্রবণতা বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে, এই পুরস্কার তা আরও বেগবান করবে। এবারের উৎসবে অস্ট্রিয়ান পরিচালক সান্দ্রা ওলনারের ‘Everytime’ সেরা ছবির পুরস্কার জিতলেও, ‘Elephants in the Fog’ দক্ষিণ এশিয়ার সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।