ইদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে পাক সেনাদের ট্রেনে ভয়াবহ জঙ্গিহামলা, রক্তাক্ত বালোচিস্তান

ইদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ জঙ্গিহামলার শিকার হলেন পাকিস্তানি সেনাকর্মীরা। রবিবার সকালে বালোচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। চমন ফটকের কাছে ট্রেনের গতি কিছুটা কম থাকায় সজোরে এসে ধাক্কা মারে গাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়।
সুপরিকল্পিত হামলা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কোয়েটা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এই হামলা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল। হতাহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ করতেই জনবহুল এলাকা এবং ট্রেনের গতি কমে যাওয়ার সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। যে দু’টি বগি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলিতে সেনাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রেললাইনের ধারে থাকা বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন এবং অন্তত ২৫-৩০টি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
যে চমন ফটক এলাকায় এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং সেখানে সর্বদা কড়া নিরাপত্তা বজায় থাকে। এমন একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় কীভাবে সমস্ত নজরদারি এড়িয়ে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। বালোচিস্তানের এই রক্তক্ষয়ী হামলা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং এর ফলে সেনাবাহিনী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।