কিভে রাতভর রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বৃষ্টি, ইউক্রেনীয় প্রতিরোধেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

ইউক্রেনের রাজধানী কিভসহ দেশের প্রায় ৪০টি এলাকায় রাতভর নজিরবিহীন জোরালো হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের দাবি, তাদের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রায় ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০টি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হাইপারসনিক প্রযুক্তিসহ অত্যাধুনিক নানা মারণাস্ত্রের এই আকস্মিক বৃষ্টিতে কেঁপে উঠেছে পুরো কিভ। হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। তবে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে দাবি করেছে কিভ প্রশাসন।
হামলার তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী কিভের সেভচেঙ্কো ও বিলা সেরকভাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, স্কুল, বহুতল ভবন এবং কারখানাকে নিশানা করে এই হামলা চালায়। হামলায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪৯টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয় এবং আরও ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর বিপরীতে মস্কোর দাবি, তারা কোনো বেসামরিক এলাকায় হামলা চালায়নি; বরং ওরেশনিক, ইসকান্দার, কিনঝল এবং জ়িরকনের মতো শক্তিশালী হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কেবল ইউক্রেনের সেনাঘাঁটিগুলোতেই নিখুঁত নিশানা হেনেছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা ও কৌশলগত আধিপত্যের লড়াই। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছুদিন ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা বেছে বেছে নিশানা বানাচ্ছিল, যার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই জোরালো সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং আগামী দিনগুলোতে বেসামরিক এলাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।