রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নির্বিঘ্ন, কিন্তু গণিতের প্রশ্ন নিয়ে ক্ষোভ পরীক্ষার্থীদের

নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্যব্যাপী বড় কোনো পরীক্ষা হিসেবে রবিবার পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা সম্পন্ন হলো। পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বোর্ডের কড়া নজরদারিতে পরীক্ষা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে মিটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা টুকলির খবর মেলেনি। তবে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও গণিতের প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জটিল ও দীর্ঘ গণিত প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি
পরীক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, এবার গণিতের প্রশ্নপত্র অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ ছিল। নির্ধারিত ১২০ মিনিটের মধ্যে ৭৫টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল বলে দাবি অনেকের। পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, অঙ্কের সমাধান বা ক্যালকুলেশনগুলো এত বড় ছিল যে পরীক্ষা শেষের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সর্বভারতীয় জেইই মেন (JEE Main) পরীক্ষার তুলনায় রাজ্যের জয়েন্টের অঙ্কের প্রশ্ন বেশি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল বলেও অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেছেন। তবে গণিত নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের প্রশ্নপত্র যথাযথ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
কড়া নিরাপত্তা ও বোর্ডের অবস্থান
চলতি বছর এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় মোট ১,২০,৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম মিলিয়ে মোট ২৬৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল বোর্ড। হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশির পাশাপাশি জালিয়াতি রুখতে রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর সম্বলিত রোভিং অবজ়ারভার মোতায়েন করা হয়েছিল।
পরীক্ষার্থীদের অসন্তোষ প্রসঙ্গে বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, যেহেতু এটি একটি রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষা, তাই প্রশ্নের মান কিছুটা কঠিন এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ হওয়া স্বাভাবিক। বোর্ডের দাবি, কড়া নিরাপত্তা বলয়ের কারণে কোনো রকম জালিয়াতি ছাড়াই অত্যন্ত সফলভাবে এবং নির্বিঘ্নে এই পরীক্ষা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।