গায়ের জোরে উচ্ছেদ আর বুলডোজার নীতি! বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

ক্ষমতায় এসেই গায়ের জোরে হকার উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ভাঙার রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি। পুরসভার মেয়র পর্যন্ত অন্ধকারে, অথচ যত্রতত্র বুলডোজার চালানো হচ্ছে। ঠিক এই ভাষাতেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষকে নিজের কথা বলতে না দিয়ে কিংবা আইনি সুযোগ না দিয়ে স্বৈরাচারী কায়দায় সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই নিজের সরকারের মানবিক মুখের উদাহরণ টেনে বিজেপির উচ্ছেদ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আইনের তোয়াক্কা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত
উচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই ঘরবাড়ি ও হকারদের দোকান ভাঙছে। কলকাতার মেয়র নিজে জানেন না, অথচ গায়ের জোরে বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বেআইনি বা সামান্য ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের ক্ষেত্রে আইনের নিয়ম মেনেই জরিমানা বা পেনাল্টি দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু বর্তমান শাসকদল সেই সব নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কাউকে নিজের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং কোনও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় নয়, সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রেই এই নির্মম কাজ করা হচ্ছে।
উন্নয়ন বনাম পুনর্বাসনের মানবিক মডেল
উচ্ছেদ বা পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়ার এই নীতির তীব্র বিরোধিতা করে নিজের প্রশাসনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, উন্নয়ন করতে গিয়ে তাঁর সরকার কখনও মানুষকে গৃহহীন বা কর্মহীন করেনি। কালীঘাট স্কাইওয়াক নির্মাণের সময় হকারদের না হটিয়ে বরং তাঁদের জন্য নতুন হকার মার্কেট বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে চওড়া করার সময় যাঁদের ঘর ভাঙা পড়েছিল, তাঁদের জন্য আগে নতুন বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার মডেল’ বা দিল্লির হকার উচ্ছেদের ধাঁচেই যে বাংলায় বিজেপি কাজ করতে চাইছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই আমজনতার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদ বা পেনাল্টির সুযোগ না দিয়ে বাড়ি ভেঙে দেওয়ার এই ‘জুলুমবাজি’র বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এর ফলে আগামী দিনে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের ইস্যুটি রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।