মমতার সাধের ভাস্কর্য ভাঙল বিজেপি সরকার, ফেসবুক লাইভে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভিভিআইপি গেটের সামনে থাকা পরিচিত ফুটবল ভাস্কর্যটি রাতারাতি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই ফেসবুক লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নতুন সরকারকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর ওপর রাগ থাকতে পারে, কিন্তু যুবভারতীর ওই শিল্পকর্মটি কেন ভাঙা হলো?
ফিফার পছন্দের ভাস্কর্য ও পালাবদলের রাজনীতি
২০১৭ সালে ভারতে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসার সময় সল্টলেক স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যায়নের অঙ্গ হিসেবে এই ফুটবল-কেন্দ্রিক মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। যার ভাবনা ও নকশা ছিল স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফেসবুক লাইভে সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বহু ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ ওই মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেন। এমনকি ফিফাও এই ভাস্কর্যটির প্রশংসা করেছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই যুবভারতীর এই কাঠামোটি সরানোর তোড়জোড় শুরু করে নতুন প্রশাসন। রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই ভাস্কর্যটিকে ‘কুৎসিত’ এবং ‘নন্দনতত্ত্বহীন’ বলে আখ্যা দিয়ে তা সরানোর নির্দেশ দেন। এরপরই শুক্রবার মাঝরাতে ভেঙে ফেলা হয় মমতার সাধের সেই ‘জয়ী’ ভাস্কর্য।
সংস্কৃতি বিনাশের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ভাঙচুরের রাজনীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আজ এক দল ক্ষমতায় এসে মূর্তি ভাঙছে, কাল অন্য দল ক্ষমতায় এসে আবার নতুন মূর্তি ভাঙবে—এই সংস্কৃতি কখনোই ভালো নয়। বাম আমলের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, তিনি নিজে ক্ষমতায় এসে কখনো লেনিন বা স্ট্যালিনের মূর্তি ভাঙেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল আমলের সমস্ত রাজনৈতিক ‘চিহ্ন’ মুছে ফেলে যুবভারতী চত্বরের ভোলবদল করতে চাইছে বর্তমান বিজেপি সরকার। তবে প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্যের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি শিল্পকর্ম রাতারাতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা এবং সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে।