বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশেই থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর প্রথমবার নিজের রাজনৈতিক উত্থানের ধাত্রীভূমি নন্দীগ্রামে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন্দীগ্রামের মাটিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম জনসভা। প্রিয় ‘ঘরের ছেলে’কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সামনে পেয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তেমনই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল ও তাৎপর্য ছিল তুঙ্গে।
আসন ছাড়ার আইনি বাধ্যবাধকতা ও জনমানসের উদ্বেগ
এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে নিজের পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই কেন্দ্রেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ইতিহাস তৈরি করেন। তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি একসঙ্গে দু’টি আসনের বিধায়ক পদ ধরে রাখতে পারেন না। সেই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রিয় নেতা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের গতি সচল থাকবে কি না, তা নিয়ে নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
জনসভা থেকে আশ্বাসের বার্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব
রবিবারের জমজমাট জনসভা থেকে সুকৌশলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের নিয়ম মেনে তিনি আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশেই আছেন। ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মতোই ভবিষ্যতেও তিনি এই মাটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পুরনো কেন্দ্রে ৯ হাজার এবং ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনৈতিক গরিমা অর্জন করেছেন, তা অনন্য। তবে নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়লেও প্রথম সফরেই সেখানকার মানুষের সংশয় দূর করার এই কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে একদিকে যেমন নন্দীগ্রামের মানুষের ক্ষোভ বা আশঙ্কা প্রশমিত হলো, তেমনই রাজ্য রাজনীতির শীর্ষাসনে বসেও শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের মূল ভিত্তির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার বার্তা দিলেন।