টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখার নতুন সময়সীমা, যানজট রুখতে কড়া পদক্ষেপ দার্জিলিং প্রশাসনের

টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখার নতুন সময়সীমা, যানজট রুখতে কড়া পদক্ষেপ দার্জিলিং প্রশাসনের

তীব্র দাবদাহ এড়াতে পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের ঢল নেমেছে শৈলশহর দার্জিলিংয়ে। কিন্তু মরশুমের শুরুতেই ব্যাপক যানজটের কবলে পড়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পাহাড়ের ট্রাফিক ব্যবস্থা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সোনাদার পর থেকে ঘুম হয়ে খোদ দার্জিলিং শহর পর্যন্ত স্তব্ধ গাড়ির চাকা। দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থেকে চরম নাকাল হচ্ছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক থেকে শুরু করে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার কনভয়ও কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে। এই ঘটনার পরই পাহাড়ের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। ঐতিহ্যবাহী টাইগার হিলে গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে দার্জিলিং সদর ট্রাফিক পুলিশ একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে।

টাইগার হিলে যাওয়ার নতুন ডেডলাইন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলিকে ভোর সাড়ে চারটের (৪:৩০ AM) মধ্যে টাইগার হিলে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপরে আর কোনও গাড়িকে কোনও অবস্থাতেই টাইগার হিলের রাস্তায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আগে সূর্যোদয় দেখার জন্য গাড়ি যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা বাঁধা ছিল না এবং পুলিশের ইস্যু করা কুপন নিয়ে গাড়িগুলি ভোর সাড়ে ৫টা বা তার পরেও অনায়াসে যেতে পারত। তবে এখন থেকে প্রশাসনের অফিসিয়াল কুপন থাকলেও ভোর সাড়ে ৪টের ডেডলাইন পার হলে আর ছাড় মিলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যানজটের কারণ ও পর্যটনে প্রভাব

পাহাড়ের অভিজ্ঞ যানচালকদের দাবি, এই তীব্র যানজটের মূলে রয়েছে হেরিটেজ টয়ট্রেন। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা হিলকার্ট রোডের একপাশ দিয়েই চলে গিয়েছে টয়ট্রেনের সমান্তরাল লাইন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে লাইনটি সরাসরি মূল রাস্তা ক্রস করেছে। পর্যটন মরশুম চাঙ্গা থাকায় এখন প্রচুর সংখ্যায় টয়ট্রেন চলাচল করছে। ফলে ধীরগতির টয়ট্রেন যখনই মূল রাস্তা পারাপার করে, তখন সুরক্ষার খাতিরে দু’দিকের সমস্ত গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর পাহাড়ি সর্পিল রাস্তায় একবার একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়লেই তার রেশ ধরে পেছনে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির পাহাড় তৈরি হয়ে যায়। সোনাদা পর্যন্ত গাড়ি নির্বিঘ্নে এলেও আসল বিপত্তি ঘটছে ঘুম স্টেশন ছোঁয়ার আগে থেকে, যেখানে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে গাড়ির অন্তহীন মিছিল তৈরি হচ্ছে। মাঝরাস্তায় ৩-৪ ঘণ্টা আটকে থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ট্রাফিকের ছবি দেখে বহু পর্যটক মাঝপথেই বুকিং বাতিল করছেন, যা পাহাড়ের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে।

সমাধানে মেগা বৈঠক

এই চরম অচলাবস্থা কাটাতে এবং যানজট সমস্যার একটি স্থায়ী বিহিত খুঁজতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। দার্জিলিংয়ের মহকুমা শাসক (SDO) বনমালী রায় আগামী সোমবার জেলা प्रशासनिक কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক ডেকেছেন। মহকুমা শাসকের কড়া নির্দেশে এই বৈঠকে হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি ও গোর্খা একতা চালক সংগঠন সহ পাহাড়ের সমস্ত প্রধান গাড়িচালকদের সংগঠনগুলিকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি জিটিএ, পরিবহণ দফতর ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও হাজির থাকবেন। সোমবারের এই বৈঠক থেকেই দার্জিলিংয়ের যানজটের জট খোলার একটি বাস্তবসম্মত রুটম্যাপ খোঁজার চেষ্টা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *