কোটি টাকার প্রকল্পেও মিলছে না পানীয় জল, জল জীবন মিশন নিয়ে যোগী সরকারকে তীব্র আক্রমণ অখিলেশের!

পাইপলাইন তৈরি হলেও কলে নেই জল, তীব্র জলকষ্টে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ব্যর্থতার অভিযোগে সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। বিশেষ করে প্রয়াগরাজ ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকায় ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন, এই মিশন আদতে সাধারণ মানুষের স্বার্থে নয়, বরং দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
কাগুজে উন্নয়ন ও অচল পরিকাঠামো
প্রয়াগরাজের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জল জীবন মিশনের জলাধার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হলেও বাস্তবে তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নওয়াবগঞ্জের তাজপুর ও বুদুনা এলাকায় জলাধার তৈরি হলেও আজ পর্যন্ত ঘরে ঘরে জল পৌঁছায়নি। অন্যদিকে মুঙ্গারি ও করছনা এলাকায় প্রায় দু-বছর আগে জলাধার নির্মিত হলেও পাইপলাইনের কাজ এখনও অধরাই রয়ে গেছে। জেলার ৪০৮টি গ্রামে ১৭৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে জল দেওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তবে অর্ধেকেরও বেশি গ্রামে নলকূপ অচল এবং ট্যাপ থেকে জল পড়ছে না।
মহাকুম্ভের বিপুল খরচ ও দুর্নীতির অভিযোগ
সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের নিয়ম মেনে প্রতিটি পরিবার থেকে মাসিক ৫০ টাকা করে জল কর আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। এই চরম অব্যবস্থার মধ্যেই প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন অখিলেশ যাদব। তাঁর অভিযোগ, মহাকুম্ভের নামে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অপচয় ও তছরুপ করা হয়েছে, অথচ স্থানীয় মানুষ এক ফোঁটা পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধানের কটাক্ষ, বিজেপি রাজে ‘জল জীবন মিশন’-এর অর্থ হলো জলের খোঁজেই সাধারণ মানুষের পুরো জীবন ব্যর্থ হওয়া।
এক ঝলকে
- প্রয়াগরাজসহ উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ গ্রামে কোটি টাকার ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প সত্ত্বেও তীব্র পানীয় জলের সংকট নিয়ে যোগী সরকারকে আক্রমণ অখিলেশ যাদবের।
- নওয়াবগঞ্জ, করছনা ও মুঙ্গারি এলাকায় জলাধার তৈরি হলেও পাইপলাইন ও পরিকাঠামোর অভাবে অর্ধেকেরও বেশি গ্রামের নল এখন সম্পূর্ণ শুকনো।
- মহাকুম্ভের নামে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ লুঠের অভিযোগ তুলে অখিলেশ বলেন, লখনউ থেকে দিল্লি পর্যন্ত দুর্নীতির পাইপলাইন বসেছে, কিন্তু মানুষের ঘরে জল পৌঁছায়নি।
- এদিকে গ্রামীণ এলাকায় মাসিক ৫০ টাকা করে জল কর আদায়ের হিসাব ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য ব্লকভিত্তিক নির্দেশ জারি করেছে পঞ্চায়েত রাজ দফতর।