ইবোলা রুখতে সিরামের বড় পদক্ষেপ, ৩ দেশে ভ্রমণে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা

ইবোলা রুখতে সিরামের বড় পদক্ষেপ, ৩ দেশে ভ্রমণে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা

মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের মারণ থাবায় পরিস্থিতি ক্রমশ আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ছাড়িয়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও। ইতিমধ্যেই মারণ এই ভাইরাসের গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২০৪ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬৭-এ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতে সংক্রমণ ঠেকাতে তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার।

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক নজরদারি

আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার এবং ক্রমবর্ধমান মৃত্যুহারের কারণে কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান— এই তিন দেশে ভারতীয় নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এই দেশগুলিতে সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও দক্ষিণ সুদানে এখনও পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি, তবুও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভারতে এখনও পর্যন্ত ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ ও বিমানবন্দরগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, ওই তিনটি দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাকসিন তৈরিতে অক্সফোর্ড ও সিরামের যৌথ উদ্যোগ

বর্তমানে ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী প্রতিষেধক বাজারে নেই। বিশ্বজুড়ে এই টিকার গবেষণা এখনও ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক পর্যায়েই আটকে রয়েছে। এই মহামারি রুখতে এবার ভারতের পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ইবোলার নতুন টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং সেগুলির মৃত্যুহারও সবচেয়ে বেশি। সিরাম ইনস্টিটিউট প্রধানত এই তিনটি মারাত্মক স্ট্রেনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই টিকা তৈরির প্রস্তুতি চালাচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এই প্রতিষেধক বাজারে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। টিকার সফল প্রয়োগ সম্ভব হলে বিশ্বজুড়ে ইবোলার মারণ থাবা থেকে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *