ইদের দিনেও ফরাক্কায় বাতিল ভোটারদের শুনানির নির্দেশ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় বাতিল ভোটারদের তালিকা নিয়ে শুরু হওয়া জটিলতা এবার এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নাগরিকদের শুনানির জন্য এতদিন কলকাতায় যেতে হলেও, স্থানীয় স্তরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্বস্তির খবরের মাঝেই চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছে হাজিরার দিনক্ষণ নিয়ে। পবিত্র কুরবানির ইদের ছুটির দিনেই কয়েকজন সংখ্যালঘু বাতিল ভোটারকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকায়। অবিলম্বে শুনানির দিন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
ভোগান্তি কমাতে ভার্চুয়াল শুনানি
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরাক্কা বিধানসভার এসআইআর (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট) তালিকা থেকে প্রায় ৩৮,২২২ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এই বিচারাধীন ভোটারদের নিজেদের নাগরিকত্ব ও ভোটার পদের বৈধতা প্রমাণে ট্রাইবুনালের শুনানির জন্য মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার জোকায় ছুটে যেতে হচ্ছিল। দীর্ঘ দূরত্ব এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন দরিদ্র সাধারণ মানুষ ও তাঁদের পরিবার। এই মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করে ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে ফরাক্কা বিডিও অফিসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানির বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই এই ভার্চুয়াল প্রক্রিয়া নিয়মিত চালু হওয়ার কথা, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় ধরনের স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছিল।
ইদের দিনে নোটিস ও চক্রান্তের অভিযোগ
এই ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্যেই নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে ১১ নম্বর ট্রাইবুনালের একটি নোটিসকে কেন্দ্র করে। আগামী বৃহস্পতিবার, যা পবিত্র কুরবানির ইদ তথা রাজ্য সরকারের ঘোষিত ছুটির দিন, সেই দিনই বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে বিকেল তিনটের মধ্যে ফরাক্কার বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু নাগরিককে ভার্চুয়াল শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ট্রাইবুনালে উৎসবের দিন এই হাজিরার নোটিস পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই ছুটির দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন এবং তাঁদের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। বিরোধী নেতাদের মতে, উৎসবের দিনে এ ধরনের নোটিস পাঠানো সম্পূর্ণ অমানবিক এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর মানসিক নির্যাতন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং শুনানির তারিখ পুনর্বিবেচনার দাবিতে জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ফরাক্কা ব্লক নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, হাজিরার তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ট্রাইবুনালের এক্তিয়ারভুক্ত। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হচ্ছে এবং শুনানির আগের দিনই ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিডিও অফিসে জমা দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত সমাধান না হলে উৎসবের মরশুমে ওই এলাকায় তীব্র জনবিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।