অবশেষে কমছে তেল-গ্যাসের দাম, হরমুজ প্রণালী সচল করতে একমত ইরান ও আমেরিকা!

দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা তীব্র অচলাবস্থার পর অবশেষে স্বস্তির আলো দেখা যাচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং হুহু করে বাড়তে থাকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম। তবে ইরান প্রশাসনের সাম্প্রতিক সূত্র অনুযায়ী, খুব দ্রুতই এই সংকটের অবসান ঘটতে চলেছে এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চলেছে হরমুজ প্রণালী।
আমেরিকা ও ইরানের শান্তিচুক্তি
পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তির বেশিরভাগ শর্তই মেনে নিয়েছে ইরান। এমনকি সংঘাত থামাতে তারা আমেরিকাকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরেও রাজি হয়েছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি সই হতে যাচ্ছে। ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী থেকে সমস্ত ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এই সময়ে দুই দেশের কেউই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে ভারত
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম হলো ভারত। নিজের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয় ভারতকে, যার সিংহভাগই আসত এই পথ দিয়ে। গত মার্চ মাস থেকে পথটি অবরুদ্ধ থাকায় ভারতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। দফায় দফায় পেট্রল, ডিজেল, বাণিজ্যিক গ্যাস এবং সিএনজির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হলে ভারতের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং আমদানির খরচ কমবে। ফলে আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম কমতে শুরু করবে এবং আমজনতা বড়সড় আর্থিক স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।