হাওড়ায় চার সন্তানসহ বাংলাদেশি দম্পতি গ্রেপ্তার, নতুন নীতি নিয়ে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর!

হাওড়ায় চার সন্তানসহ বাংলাদেশি দম্পতি গ্রেপ্তার, নতুন নীতি নিয়ে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর!

রাজ্যে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি চালুর পর হাওড়ার জগাছা থেকে চার সন্তানসহ এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জগাছা থানার পুলিশ উনসানি মাঝেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রমজান গাজি (৩৬) এবং তার স্ত্রী আরিফা বেগমকে (৩৪) আটক করে। ধৃতদের সাথে থাকা চার শিশুর মধ্যে দু’জনকে লিলুয়া হোমে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দু’জন ছোট হওয়ায় মায়ের সাথেই রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনুপ্রবেশের নেপথ্য ও নথির জালিয়াতি

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রতনপুর থেকে দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এই রাজ্যে প্রবেশ করেছিল ওই দম্পতি। এরপর উনসানি এলাকায় বসবাস শুরু করে রমজান ডাব ও তাল বিক্রি করত। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৪ সালের পর তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভারতীয় রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ও পাসপোর্ট হাতিয়ে নেয়। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা ভোটও দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল হওয়ায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তারা আর ভোট দিতে পারেনি।

আইনি পদক্ষেপ ও নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক

বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে জগাছা থানার পুলিশ ওই দম্পতির বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা দায়ের করে রবিবার হাওড়া আদালতে পাঠিয়েছে। তবে এই গ্রেপ্তারির পর থেকেই নতুন প্রশাসনিক নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দিতে হবে। এই দম্পতিকে কেন সেই নীতি মেনে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর না করে আদালতে পাঠানো হলো, তা নিয়ে পুলিশি সমন্বয়ের অভাব ও সরকারি নির্দেশিকা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *