সারাদিন সন্তানের জন্য যুদ্ধ, তবু হাসি নেই! কোন মায়েরা বেশি অবসাদে ভোগেন জানেন?

সন্তানকে বড় করে তোলার যাত্রাপথ প্রতিটি মায়ের জন্যই এক কঠিন পরীক্ষা। আধুনিক সমাজে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গৃহবধূ এবং কর্মরত মা, উভয় পক্ষই তীব্র মানসিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। মনোবিদদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে দুই ধরনের মায়ের জীবনধারা আলাদা মনে হলেও, দিনশেষে দু’জনেই এক গভীর মানসিক অবসাদের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন।
গৃহবধূদের একাকীত্ব ও অবমূল্যায়নের যন্ত্রণা
সংসার ও সন্তানের দেখভাল করতে গিয়ে গৃহবধূরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। মনোবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একা হাতে বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব সামলানোর পরেও গৃহবধূদের কাজকে সমাজ প্রায়শই ‘থ্যাংকলেস জব’ বা স্বীকৃতিহীন কাজ হিসেবে দেখে। আর্থিক স্বাবলম্বিতা না থাকা এবং ‘সারাদিন কী করো?’—এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া তাঁদের মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিজের প্রতি নজর না দেওয়া এবং একঘেয়েমির কারণে এই মায়েরা শরীর জুড়ে ব্যথা, ওজন বৃদ্ধি এবং তীব্র অবসাদে ভুগছেন।
কর্মরত মায়েদের অপরাধবোধ ও দ্বৈত চাপ
অন্যদিকে, কর্মরত মায়েদের লড়াইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। তাঁদের একাধারে অফিসের কাজের ডেডলাইন এবং অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার গ্লানি তাঁদের মনে গভীর অপরাধবোধের জন্ম দেয়। এই দ্বৈত চাপের ফলে কর্মরত মায়েরা হাইপারটেনশন, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন এবং তীব্র উদ্বেগজনিত (অ্যাংজাইটি) সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
মনোবিদদের পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মনোবিদদের মতে, এই মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু মায়েদের স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করে না, বরং বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ও প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। এর ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি সন্তানের মানসিক বিকাশের ওপর গিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষজ্ঞরা মায়েদের সমাজের চাপিয়ে দেওয়া ‘নিখুঁত মা’ হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, মাথা যন্ত্রণা, ঘুমের সমস্যা বা হাত-পা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সাবধান হতে হবে। নিজেকে সময় দেওয়া, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমেই কেবল এই মারাত্মক অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।