ইমাম ভাতা চালুর আসল কারণ জানালেন মমতা, বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে তুললেন প্রশ্ন

ইমাম ভাতা চালুর আসল কারণ জানালেন মমতা, বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে তুললেন প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইমাম ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই রাজ্যে কোনো ধরনের ধর্মীয় ভাতা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নতুন শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এত বছর পর ইমাম ভাতা চালুর প্রকৃত কারণ ও পটভূমি নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার নিজের ফেসবুক পেজে এক লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে বিরোধীদের তোষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এই ভাতার পেছনের সামাজিক প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন তিনি।

ভাতার পেছনে সামাজিক সচেতনতার যুক্তি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইমাম ভাতা কোনো ধর্মীয় কারণে দেওয়া হতো না, বরং এর পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক উদ্দেশ্য ছিল। অতীতে হাওড়ায় এক শিশুর পোলিও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতকে যখন কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছিল, তখন সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার আলোয় এগিয়ে আনা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ ভাতা হিসেবে এটি চালু করা হয়েছিল। তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যের ইমামদের ৩০০০ টাকা এবং মোয়াজ্জেনদের ১৫০০ টাকা করে এই ভাতা প্রদান করা হতো।

নতুন নীতির প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ইমাম ও পুরোহিতদের সমস্ত রকম ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আজান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আজান পছন্দ না হলে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ডেসিবেল মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হোক এবং সেই নিয়ম যেন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমাম ভাতা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যা নিয়ে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *