স্বস্তির নিঃশ্বাস বিশ্ববাজারে, অবশেষে কি কমবে জ্বালানির দাম?

স্বস্তির নিঃশ্বাস বিশ্ববাজারে, অবশেষে কি কমবে জ্বালানির দাম?

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা এবং সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তির পথে হাঁটছে আমেরিকা ও ইরান। বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে হরমুজ প্রণালীর ওপর। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অবরুদ্ধ থাকা এই আন্তর্জাতিক জলপথটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় সম্পূর্ণ সচল হতে চলেছে বলে জানা গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহ আবার আগের মতো স্বাভাবিক হবে, যা সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির জ্বালা থেকে মুক্তি দেবে।

ইউরেনিয়াম বনাম বাজেয়াপ্ত সম্পদ মুক্তির রফাসূত্র

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর পেছনে রয়েছে দুই দেশের কিছু বড় কৌশলগত সমঝোতা। সূত্রের খবর, যুদ্ধ থামাতে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে আমেরিকাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তির প্রথম দফায় এই বিষয়গুলো নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোয় ইরানের শিপিং রুটের ওপর থাকা নানাবিধ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। উল্লেখ্য, দুই বৈরি দেশের মধ্যে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান।

হরমুজ উন্মুক্ত হওয়ার বৈশ্বিক প্রভাব

ইরান ও আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের আগে এই ব্যস্ততম জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ইরান এই পথ আটকে দেওয়ায় হাতেগোনা কিছু জাহাজ চরম ঝুঁকি নিয়ে এবং মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত শুল্ক দিয়ে যাতায়াত করছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বিশ্ববাজারের তেল সরবরাহে, যার ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল জ্বালানির দাম। এবার হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। ফলে তেলের জোগান বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ একধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি ভারত সফরকালে মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান-আমেরিকা চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি সচল হলে তা কেবল জ্বালানি খাতের সংকটই কাটাবে না, বরং মন্দার কবলে পড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *