তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ, হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোকের হাই অ্যালার্ট!

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ, হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোকের হাই অ্যালার্ট!

কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এবং ক্রমবর্ধমান গরমের তীব্রতা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে হিট স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের চড়া রোদে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছেন। বিশেষ করে পুরুলিয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় সেখানকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।

জনজীবনে অস্বস্তি ও কারণ

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সূত্র অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের কারণেই মূলত কলকাতা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। তীব্র রৌদ্রের তেজে দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট ও বাজার এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে যাঁরা বাইরে বেরোচ্ছেন, তাঁরা মাথা-মুখ কাপড়ে ঢেকে রোদের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এই আবহাওয়ায় শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানীয়, শরবত ও ফলের রসের দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে। অনেকেই দুপুরের চড়া রোদ এড়াতে সকাল সকাল প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছেন।

প্রভাব ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

আগামী ২৫ এবং ২৬ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে এই অস্বস্তিকর গরমের সতর্কতা জারি থাকবে। তবে বুধবারের পর থেকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত জল পান করা এবং দীর্ঘক্ষণ রোদে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তীব্র রোদে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা, বাইরে বেরোলে ছাতা, টুপি বা ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করা এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার যেমন ডাবের জল খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে দ্রুত ছায়ায় নিয়ে শরীর ঠান্ডা জল দিয়ে স্পঞ্জ করা এবং সচেতন থাকলে জল খাওয়ানোর পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *