দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে এবার জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল!

দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে এবার জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, তীব্র অস্বস্তিতে তৃণমূল!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রক্তক্ষরণ ও অসন্তোষের পালা যেন থামছেই না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সম্প্রতি তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ জমছিল। শেষ পর্যন্ত দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তৃণমূলের বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন চারবারের এই সাংসদ।

তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চিঠিতে চরম তোপ

পদত্যাগপত্রের ছত্রে ছত্রে দলের বর্তমান অবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক অপরাধ ও দুর্নীতির ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে, যার ফলে দলের বিশ্বাসযোগ্যতা আজ বড়সড় প্রশ্নের মুখে। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া গভীর সন্দেহ দলের ভবিষ্যতের জন্য মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।

নাম না করে আইপ্যাক ও নতুন নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিলেও, পরাজয়ের জন্য পরোক্ষভাবে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক এবং দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন নেতাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কাকলি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, বিগত দিনের মতো সৎ, নিষ্ঠাবান ও পুরোনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলেই দলের ভাবমূর্তি পুনরায় উজ্জ্বল হবে। ‘ভুঁইফোড়’ নেতৃত্ব দিয়ে দলের কোনো কঠিন কাজ সফল হওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি তোপ দাগেন। মূলত, লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে মাত্র ৯ মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই যে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

এক ঝলকে

  • বিধানসভা নির্বাচনে বারাসাত জেলায় দলের শোচনীয় ফলাফলের নৈতিক দায় নিয়ে জেলা সাংগঠনিক সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
  • রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পাঠানো চিঠিতে দলের বর্তমান পরিচালনা নীতি, দুর্নীতি ও অপরাধের জেরে তৈরি হওয়া বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
  • নাম না করে ভোটকুশলী সংস্থা ও নতুন নেতাদের আক্রমণ করে পুরোনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ওপর ভরসা রাখার জন্য দলনেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন কাকলি।
  • সম্প্রতি লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়ায় সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরেই এই বড় পদক্ষেপ নিলেন প্রবীণ এই নেত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *