আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের ‘ঘরের ছেলে’ হয়েই থাকবেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই বড় বার্তা শুভেন্দুর!

সংবিধানের নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ত্যাগ করলেও সেখানকার মানুষের সঙ্গে নিজের নাড়ির টান অটুট রাখার জোরালো বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে তিনি বিধানসভায় গেলেও, রবিবারের সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো বড় পদে বসলেও তিনি কখনো শিকড়-ছাড়া হবেন না এবং আগের মতোই সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।
শহিদ পরিবারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এদিন নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যে ঐতিহাসিক মোড়বদল ঘটেছিল, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল এই নন্দীগ্রামই। এবারও তৃণমূলকে এ রাজ্যে মূলসহ উৎখাত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের হাতে অপদস্থ হওয়া সত্ত্বেও মাথা নত না করা ৭টি শহিদ পরিবারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, ২০০৬ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা যেকোনো সংকটে তিনি যেভাবে এই অঞ্চলের মানুষের পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও তাঁর সেই ভূমিকায় কোনো বদল আসবে না।
রাজ্যের উন্নয়ন ও কড়া হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি
পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত দিনে নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই সব প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ভবানীপুরে খোদ মমতার নিজের বুথে এবং ফিরহাদ হাকিমের পাড়াতেও বিজেপি জয়লাভ করেছে। ৩৪ বছরের বাম আমল এবং ১৫ বছরের তৃণমূলের দুর্নীতির হাত থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে শিল্প, নারী সুরক্ষা, পরিশ্রুত পানীয় জল ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেন তিনি। দুর্নীতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী সব চুরির হিসাব হবে এবং দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আসন্ন উপ-নির্বাচনে ফলতার মতোই বিপুল ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আহ্বান জানান তিনি।
এক ঝলকে
- বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্রে জয়ের পর সাংবিধানিক নিয়মে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক পদ বহাল রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়লেও তিনি যে সবসময় আগের মতোই ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন এবং পরিষেবা দেবেন, সেই আশ্বাস দেন শুভেন্দু।
- পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলকভাবে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সব থমকে থাকা কাজ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
- রাজ্যে বাম ও তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলের ভাত খাওয়ানোর হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।