আদমশুমারির কর্মীদের বাড়ির ঠিকানা বলে দেওয়াই কাল, প্রতিবেশী ক্ষিপ্ত হয়ে চালালেন গুলি!

সরকারি আদমশুমারির (সেন্সাস) কর্মীদের নিজের বাড়ির ঠিকানা দেখানোর অপরাধে প্রতিবেশীর বুকে গুলি চালানোর এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। মুরাদনগর এলাকার এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ প্রতিবেশী গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি কর্মীদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করার মতো একটি সাধারণ সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন প্রাণঘাতী হামলার শিকার হতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্যাদি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে তীব্র বিবাদ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরাদানগরের আদর্শ কলোনিতে আদমশুমারির কর্মীরা তথ্য সংগ্রহের জন্য এসেছিলেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্যাগী নামের এক ব্যক্তি ওই কর্মীদের কাজ সহজ করতে প্রতিবেশী রামপাল চৌধুরীর বাড়ির ঠিকানা দেখিয়ে দেন। সেই অনুযায়ী কর্মীরা রামপালের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সরকারি কর্মীরা তাঁর বাড়ি চেনার পেছনে বীরেন্দ্রর ভূমিকা রয়েছে তা জানতে পেরেই রামপাল সোজাসুজি বীরেন্দ্রর কাছে গিয়ে চরম অশান্তি শুরু করেন।
আকস্মিক হামলা ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ
প্রথম দফায় বিবাদের পর রামপাল চৌধুরী সেখান থেকে চলে গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ নিয়ে ফিরে আসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৬৫ বছর বয়সি রামপাল আচমকাই নিজের কাছে থাকা বন্দুক বের করে বীরেন্দ্রকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন। গুলির শব্দে কলোনির মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং রক্তাক্ত বীরেন্দ্রকে উদ্ধার করে দ্রুত মোদীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর মুরাদানগরের এসিపీ ভাস্কর বর্মা জানিয়েছেন, এই ঘটনার মূল কারণ প্রতিবেশীর ওপর ক্ষোভ। আক্রান্তের ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে প্রবীণ অভিযুক্ত রামপাল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- গাজিয়াবাদের মুরাদানগরে আদমশুমারির কর্মীদের প্রতিবেশীর বাড়ির ঠিকানা বলে দেওয়ায় বীরেন্দ্র ত্যাগী নামের এক ব্যক্তির ওপর গুলি চালালেন প্রতিবেশী।
- ৬৫ বছর বয়সি অভিযুক্ত রামপাল চৌধুরী তাঁর বাড়ি দেখানোর কারণে বীরেন্দ্রর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই মারাত্মক হামলা চালান।
- গুলিবিদ্ধ বীরেন্দ্র ত্যাগীকে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে গুরুতর জখম অবস্থায় মোদীনগরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছেন।
- ঘটনার পর আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত রামপাল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনি তদন্ত শুরু করেছে।