ফলতায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সিপিএম, ভোটব্যাঙ্কের এই উত্থানকে বাম পুনরুত্থানেরই স্পষ্ট চিহ্ন বলছেন সেলিম!

তৃণমূলের একদা অপরাজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার রেকর্ড জয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে বামেদের ভোট প্রাপ্তি। নির্বাচনে সব মিলিয়ে ৪০ হাজার ৬৪৫টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিআই(এম)। দলের এই অভাবনীয় ফলাফলকে রাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থানের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক চিহ্ন হিসেবে দেখছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
তৃণমূলের বিপর্যয় ও বামেদের শক্তি বৃদ্ধি
ফলতার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও গেরুয়া শিবিরকে একযোগে নিশানা করেছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি দাবি করেন, আরএসএসের সাজানো বাহিনী হিসেবে কাজ করা তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে তীব্র গরমে বরফের মতো গলে যাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সিপিএম অত্যন্ত সুসংহতভাবে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া শক্তি ও সংগঠনকে পুনরায় গুছিয়ে নিচ্ছে। শাসক শিবিরের এই নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা আদতে নিচুতলার রাজনীতির এক বড়সড় মোড়বদল বলেই মনে করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
প্রান্তিক মানুষের রায় ও ভবিষ্যতের লড়াই
মহম্মদ সেলিমের মতে, এই ফলাফল কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াইয়ের ফসল। তিনি স্পষ্ট জানান, বামপন্থীরা প্রতিনিয়ত প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে লড়াই চালাচ্ছেন, ফলতার ভোটাররা ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তারই যোগ্য স্বীকৃতি দিয়েছেন। নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূলের এই বিপর্যয়কে সামনে রেখে রাজ্য সম্পাদক অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন যে, রাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থান এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা এবং আগামী দিনে এই জমি আরও শক্ত করবে দল।
এক ঝলকে
- ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে ৪০ হাজার ৬৪৫টি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করল সিপিআই(এম)।
- এই নির্বাচনী ফলাফলকে রাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থানের একটি অত্যন্ত জোরালো ও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে দাবি করেছেন মহম্মদ সেলিম।
- তীব্র গরমে বরফের মতো তৃণমূল গলে যাচ্ছে বলে কটাক্ষ করে সেলিম বলেন, সিপিএম অত্যন্ত সুসংহতভাবে নিজেদের শক্তি ফিরে পাচ্ছে।
- প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করার কারণেই ফলতার ভোটাররা বামেদের এই সমর্থন দিয়েছেন বলে মনে করছে সিপিএম নেতৃত্ব।