কেরলমে অর্থ পাচার মামলায় ইডির জোরদার অ্যাকশন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনসহ ১০টি স্থানে চিরুনি তল্লাশি

কেরলমে অর্থ পাচার মামলায় ইডির জোরদার অ্যাকশন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনসহ ১০টি স্থানে চিরুনি তল্লাশি

কেরলমের রাজনীতিতে এক বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনসহ অন্তত ১০টি স্থানে একযোগে অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থ পাচার মামলার সূত্র ধরে তিরুবনন্তপুরমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসস্থান এবং কোচি-ভিত্তিক খনিজ উত্তোলনকারী সংস্থা সিএমআরএল (কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড) অফিসে এই জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি কেরল হাইকোর্ট এই মামলা সংক্রান্ত ইডির তদন্ত বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

তদন্তের মূল কারণ ও আর্থিক অসঙ্গতি

এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা বীণা বিজয়ন ও তাঁর মালিকানাধীন আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’ এর বিরুদ্ধে ওঠা কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কোনো প্রকার সফটওয়্যার বা বিপণন পরিষেবা না দেওয়া সত্ত্বেও সিএমআরএল নামের বেসরকারি খনিজ কো ম্পা নিটি বীণা বিজয়নের সংস্থাকে ১.৭২ কোটি টাকা প্রদান করেছিল। এছাড়া, তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি যে, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে সিএমআরএল পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভুয়া খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৩৩.৮২ কোটি টাকা নগদ তুলেছিল, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া সংস্থা এবং কিছু সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে বিতরণ করা হয়।

আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০১৯ সালে আয়কর বিভাগের অভিযানে প্রথম এই অনিয়ম সামনে আসে। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকার সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-কে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলে জালিয়াতির মামলা রুজু হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই ইডি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে (পিএমএলএ) তদন্ত শুরু করে। সিএমআরএল কর্তৃপক্ষ ইডির সমন ও তদন্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেলেও কেরল হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা দেওয়া হবে না। আদালতের এই সবুজ সংকেতের পর ইডির বর্তমান তৎপরতা কেরলমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, আগামী দিনগুলোতে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *