H-1B ভিসার ফিস বাতিল, আদালতের রায়ে চড়ল রাজনীতির পারদ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ওপর বড় ধাক্কা এল ফেডারেল আদালতের রায়ে। এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১ লক্ষ ডলারের বিশাল ফি বাতিল করে দিল আদালত। এই রায়ের পর থেকেই ওয়াশিংটনের অন্দরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প সরাসরি আদালতের এই রায়ের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, বিচার বিভাগীয় এই ধরণের হস্তক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও সুরক্ষার জন্য চরম ক্ষতিকর।
কেন বাতিল হলো মোটা অঙ্কের ভিসা ফি?
ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এই ফি-কে সরাসরি ‘অবৈধ কর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া এই ধরণের বিশাল অংকের ফি চাপানো আইনত সিদ্ধ নয়। ক্যালিফোর্নিয়া সহ ১৯টি রাজ্যের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেই এই রায় এল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এইচ-১বি ভিসার দীর্ঘদিনের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তিতে সিলমোহর দেয়নি, বরং কার্যনির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের এই রায়ের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা উচ্চতর আপিল আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ভারতীয় পেশাদারদের ওপর কী প্রভাব?
আমেরিকার এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী ভারতীয় পেশাদাররা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭.৩০ লক্ষ ভিসা ধারক আমেরিকায় কর্মরত, যার মধ্যে একটি বড় অংশের মানুষ ভারতীয়। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, হেলথকেয়ার এবং ফাইন্যান্স সেক্টরে ভারতের বিপুল সংখ্যক বিশেষজ্ঞের ওপর মার্কিন সংস্থাগুলি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আদালত এই ফি বাতিল করায় ভারতীয় পেশাদারদের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রায় নিয়ে আমেরিকার অন্দরে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটরা আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে কিছু রিপাবলিকান সাংসদ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নতুন করে আইন সংশোধনের দাবি তুলেছেন। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভারতীয় প্রতিভা এবং মার্কিন অর্থনীতির সম্পর্কের সমীকরণে এই আদালতের রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।