‘নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না’, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেব!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে তৃণমূলের তারকা সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। দিল্লির দরবারে তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার ঘটনায় দেবের নাম জড়ানোয় তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, দেব কি তবে এনডিএ জোটে শামিল হচ্ছেন? এই জল্পনা ও ‘দেশু সমীকরণ’ নিয়ে মঙ্গলবার কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট করেছেন ঘাটালের এই জনপ্রতিনিধি।
উন্নয়ন ও সৌজন্যের রাজনীতিতে অনড় দেব
দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর এই পদক্ষেপ কোনো দলবদলের ইঙ্গিত নয়, বরং ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া তাঁর সৌজন্যের রাজনীতির ধারা বজায় রেখে তিনি জানান, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক পদকে সম্মান জানানো তাঁর দায়িত্ব। কেন্দ্রের ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে ২০২৯ সালের মধ্যে ঘাটালের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রকল্পের জন্য নতুন বাজেটে আর্থিক বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অবিচল আনুগত্য
দলের অন্যান্য ‘বেসুরো’ বা বিদ্রোহী সাংসদদের সুর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে নিয়েছেন দেব। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি কোনো ‘নতুন তৃণমূলে’ যাচ্ছেন না এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা চিরকাল অটুট থাকবে। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের জন্য আড়াইশো কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরু করেছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করার প্রশ্নই ওঠে না বলে দেব জানান। এই বিবৃতির মাধ্যমে দেব স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাই এখন তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।