‘এখন তাঁদের নেতা মোদী’, টিএমসিতে বিদ্রোহ নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা; পাল্টা জবাব কাকোলির

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিদ্রোহ দলের অভ্যন্তরীণ লড়াইকে এক খোলা রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত করেছে। ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী অবস্থান নেওয়ায় এবং এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, বিদ্রোহী সাংসদরা তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন করেছেন এবং এখন তাঁদের প্রকৃত নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তাঁদের নিজেদের তৃণমূল সাংসদ বলা বন্ধ করা উচিত- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে রাজনৈতিক নৈতিকতা বেঁচে থাকে, তবে তাঁদের নিজেদের তৃণমূল সাংসদ বলা বন্ধ করা উচিত এবং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে জনতার দরবারে যাওয়া উচিত।
তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে পদ ছেড়ে দেওয়াই হলো সৎ রাজনীতির পথ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ কী কী?
কল্যাণ অভিযোগ করেন যে, বিদ্রোহী সাংসদরা কখনোই দলের মঞ্চে তাঁদের অভিযোগ জানাননি। নির্বাচনের সময় যে নেতারা নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তাঁরাই আজ হঠাৎ বিরোধিতার পতাকা তুলছেন। তিনি কিছু সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা ও পদের লোভে রাজনীতি করার অভিযোগও তুলেছেন।
সাংসদ কাকলি ঘোষের পাল্টা জবাব
যদিও বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে লড়াইয়ের রাজনীতি করে আসছেন এবং কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবেন না। কাকলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার মাথা কেটে যেতে পারে, কিন্তু আমি মাথা নত করব না।”
কাকলি জানালেন বিদ্রোহের কারণ
তিনি তাঁর বিদ্রোহের কারণ হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কথিত দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং কিছু নেতার স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন। কাকলির মতে, রাজ্যের স্বার্থে পরিবর্তন জরুরি এবং এটাই তাঁদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ভিত্তি। তৃণমূলের ভেতরের এই সংঘাত এখন কেবল সাংগঠনিক মতপার্থক্য নয়, বরং নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিশার এক চূড়ান্ত লড়াই হয়ে উঠছে বলেই মনে হচ্ছে।