পালা বদলের পর রং বদল, নবান্নের গায়ে এ বার গেরুয়ার প্রলেপ

পালা বদলের পর রং বদল, নবান্নের গায়ে এ বার গেরুয়ার প্রলেপ

তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক ভবন গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে সরিয়ে আনা হয়েছিল। সেই সময় আকাশছোঁয়া ১৪ তলার ‘নবান্ন’ মাথা তুলে দাঁড়ায়, যার রং শুরুর দিন থেকেই ছিল নীল-সাদা। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে উঠেছে গেরুয়া ঝড়। এবার সরকার বদলের ছোঁয়া লাগল রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনের গায়েও। মঙ্গলবার নবান্নে নীল-সাদার ওপর পড়তে শুরু করল গেরুয়া রঙের প্রলেপ। এমন দৃশ্য দেখে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অনেকে হাসিমুখে গুনগুন করে উঠছেন, ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া।’

নীল-সাদার জমানা ও রাইটার্সের স্মৃতি নীল-সাদা ছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ট্রেডমার্ক। কেউ মজা করে একে আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে তুলনা করতেন, আবার কেউ বা স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে। একসময় রাজ্যে সরকার চলত রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে। বাম সরকারের রাজনৈতিক চেতনার সঙ্গে মানানসই সেই ভবনের রং ছিল লাল—যদিও স্বাধীনতার সময় থেকেই রাইটার্সের রং লালই ছিল। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক ভবন গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে সরিয়ে আনা হয় এবং ১৪ তলার ‘নবান্ন’ তৈরি হয়।

সারা রাজ্যে রঙের ছোঁয়া শুধু নবান্ন নয়, সেই সময় রাজ্যের প্রায় সমস্ত প্রশাসনিক ভবনেরই রং বদলে ফেলা হয়। নীল-সাদা রঙে সেজে ওঠে সরকারি অফিস ও বিভিন্ন বিল্ডিং। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাস্তার ডিভাইডারগুলোও নীল-সাদা রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক বৈঠক এমনকি সরকারি অনুষ্ঠানের প্যান্ডেলেও লাগত এই রঙের ছোঁয়া। তৎকালীন রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি জানাননি।

রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীকী বার্তা রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এবার শুরু হলো প্রশাসনিক ভবনের রং পরিবর্তনের কাজ। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার তাদের অগ্রাধিকার ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে প্রশাসনিক ভবনের রূপ পরিবর্তন করতেই পারে—এর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই। তবে অনেকে একে নিছক রং পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না; বরং তাঁদের মতে, এটি হলো রাজনৈতিক পালাবদলের এক প্রতীকী বার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *