আর্টিস্ট ফোরামে উধাও হয়ে যেত শিল্পীদের অভিযোগ, বিস্ফোরক ভাস্বরের দাবিতে তোলপাড় টলিপাড়া

টলিপাড়ার অন্দরে একের পর এক বিতর্কের আবহে এবার শিল্পী সংগঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, অতীতে আর্টিস্ট ফোরামে পাঠানো শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ বা আবেদনপত্রের ইমেলগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হতো, এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলি গায়েব করে দেওয়া হতো। টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাঁর এই দাবি নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে সংশ্লিষ্ট মহলকে।
অভিযোগের পাহাড় আর অবহেলার ইতিহাস
ভাস্বরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সূত্রপাত। তিনি জানিয়েছেন, বছর কয়েক আগে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত একটি জটিল সমস্যায় পড়ে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর দীর্ঘ সময় পরেও কোনো উত্তর মেলেনি। পরে নিজে উদ্যোগী হয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয় তাঁকে। বর্তমান কমিটির এক সদস্যের সাথে আলোচনার সময় ভাস্বর জানতে পারেন, তৎকালীন সময়ে আসা ইমেলগুলি নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেই ইমেলগুলিকে আমলই দিতেন না, যার ফলে বহু শিল্পীর জরুরি আবেদন নথিবদ্ধ হওয়ার আগেই হারিয়ে যেত। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে ভাস্বর দাবি করেছেন। এই ঘটনা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দায়বদ্ধতার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।
টলিপাড়ার অন্দরে অস্বস্তির নতুন ঢেউ
ভাস্বরের এই বিস্ফোরক পোস্টের পরই টলিপাড়ার শিল্পীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মৈত্রসহ অনেকেই তাঁর দাবির সত্যতা স্বীকার করে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার অন্য একটি পক্ষ এই সুযোগে অতীতের নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলতে ছাড়েননি। এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শিল্পী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার ফলে সাধারণ শিল্পীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইসঙ্গে, নতুন কমিটির ওপর চাপ বাড়ছে যাতে তারা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অতীতে ঘটে যাওয়া এমন অনিয়মগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চাপা পড়ে থাকা অসন্তোষ এখন যেভাবে প্রকাশ্যে আসছে, তা শিল্পী সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র ও কার্যপ্রণালীতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।