পাহাড়ের ১৬টি বোর্ড ও জিটিএ-র বিরুদ্ধে এবার বড়সড় তদন্তের হুঁশিয়ারি পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার!

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলের পরিকাঠামো ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শনের মাঝেই এক বড়সড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার পাহাড়ের একাধিক এলাকা পরিদর্শনের পর তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিগত রাজ্য সরকারের আমলে জনজাতিদের নিয়ে গঠিত ১৬টি পৃথক বোর্ডের আর্থিক লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। এই তদন্তের আওতা থেকে রেহাই পাবে না গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-ও। পাহাড়ি অঞ্চলের সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
পাহাড় পরিদর্শনের পর বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পুরমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে কেবল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসতেন, কোনো প্রকৃত কাজ করেননি। জনজাতিদের উন্নয়নের নামে যে ১৬টি বোর্ড গঠন করে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো সঠিক হিসাব মেলেনি। সরকারি তহবিলের এই অস্বচ্ছতাই মূলত এই তদন্তের প্রধান কারণ। মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান সরকার পাহাড়ে কেবল ঘুরে বেড়াতে নয়, বরং কাজ করতে এসেছে এবং প্রতিটি বোর্ডের খরচের হিসাব নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ফলে পাহাড়ের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে এর একটি বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাহাড়ের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো সংস্কারের রূপরেখা
তদন্তের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। দার্জিলিং ও সংলগ্ন অঞ্চলের প্রধান সমস্যা জলসংকট দূর করতে সিনচেল এলাকায় চলমান ‘আমুত’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে পাহাড়ের পানীয় জলের সমস্যা চিরতরে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, মিরিক লেককে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে সেখানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধাসহ আধুনিক পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুধিয়া সেতুটি ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর তৈরির বকেয়া ৬০ হাজার টাকা দ্রুত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পরিকাঠামো উন্নয়নের এই উদ্যোগগুলো পাহাড়ের পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।