সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক হলফনামা, মমতার নির্দেশে তথ্য চুরির অভিযোগে কাঠগড়ায় খোদ ডিজি

সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক হলফনামা, মমতার নির্দেশে তথ্য চুরির অভিযোগে কাঠগড়ায় খোদ ডিজি

আই-প্যাক (I-PAC) মামলায় ইডি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংঘাত এবার নজিরবিহীন মোড় নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক এক হলফনামায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে বেআইনি হস্তক্ষেপ ও তথ্য-প্রমাণ লোপাটে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির দাবি, রাজ্যের সাংবিধানিক পদমর্যাদাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজি) এবং এক শহরের পুলিশ কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই কি নথি গায়েব?

ইডি-র অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক এবং এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চলাকালীন রাজ্যের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা কেবল বাধাই দেননি, বরং মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেখান থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস এবং নথি সরিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি ‘অপরাধমূলক চুরির’ শামিল। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে দাবি করেছিলেন তিনি কেবল ‘বিনম্র অনুরোধ’ জানিয়েছিলেন, ইডি সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে সেখানে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং আইনি তল্লাশিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

আদালতের পরিবেশ কলুষিত করার অভিযোগ

তদন্তে বাধার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তুলেছে ইডি। হলফনামায় বলা হয়েছে, যখন এই মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে, তখন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভিড় ও আইনজীবী জমায়েত করে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, নিরপেক্ষ শুনানির মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে আদালতের ভেতরে ও বাইরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল।

সিবিআই তদন্ত ও এফআইআর-এর জোরালো দাবি

যাঁদের কাজ আইন রক্ষা করা, তাঁরাই আইন ভেঙেছেন—এই কঠোর মন্তব্য করে ইডি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, পুরো ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে। ইডি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো অভিযুক্তেরই এফআইআর দায়ের হওয়ার আগে বা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করার আইনি অধিকার নেই, যা এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এই মামলার জল এখন কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *