ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নাকি বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতা? গাজা শান্তি প্রস্তাবে বড় চাল দিল দিল্লি

নিউ ইয়র্ক ও নয়াদিল্লি: বিশ্ব রাজনীতিতে নয়া মোড়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৈরি বিতর্কিত গাজা শান্তি প্রকল্পে শেষমেশ নাম লেখাল ভারত। দাউস সম্মেলন থেকে যে ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে নয়াদিল্লি এতদিন দূরত্ব বজায় রেখে আসছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড়সড় বাণিজ্য চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই সেই টেবিলে দেখা গেল ভারতীয় প্রতিনিধিকে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারত যোগ দিয়েছে ‘পর্যবেক্ষক’ রাষ্ট্র হিসেবে।
দাভোস থেকে ওয়াশিংটন: যেভাবে অবস্থান বদলাল ভারত
জানুয়ারি মাসে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে ট্রাম্প যখন এই শান্তি বোর্ডের প্রস্তাব দেন, তখন তাতে সাড়া দেয়নি ভারতসহ পশ্চিম ইউরোপের বহু দেশ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লেখা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিঠির পরেও সাউথ ব্লক ছিল নিরুত্তাপ। কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, ভারত সম্ভবত রাষ্ট্রপুঞ্জের সমান্তরাল এই সংস্থাকে এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু পাশা উল্টে গেল ট্রাম্পের এক ঘোষণায়। ভারতের সাথে মেগা বাণিজ্য চুক্তির সবুজ সংকেত আসতেই বরফ গলতে শুরু করে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, গাজায় শান্তি ফেরানোর যে কোনো উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। সেই পথ ধরেই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স নমজ্ঞ সি খাম্পার উপস্থিতি বুঝিয়ে দিল, রণকৌশল বদলে ফেলেছে দিল্লি।
রাষ্ট্রপুঞ্জের চ্যালেঞ্জার কি এই ‘বোর্ড অফ পিস’?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আদতে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রভাব খর্ব করে নিজের নিয়ন্ত্রণে একটি বিশ্বমঞ্চ গড়তে চাইছেন। যদিও ট্রাম্প এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও পাকিস্তানসহ ২৭টি দেশের পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ সেই জল্পনাকেই উসকে দিচ্ছে।
অর্থের ঝনঝনানি ও কূটনৈতিক সমীকরণ
- বড় বিনিয়োগ: বোর্ড অফ পিসের সদস্য ৯টি দেশ গাজা প্যাকেজের জন্য ৭০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
- আমেরিকার ভূমিকা: স্বয়ং আমেরিকা এই প্রকল্পে ১০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানানো হয়েছে, যদিও সেই অর্থ ঠিক কোন পথে খরচ হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে।
- ভারতের ভূমিকা: আপাতত সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে থেকে পরিস্থিতি পরখ করতে চাইছে মোদি সরকার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্রেফ কোনো শান্তি প্রক্রিয়া নয়, বরং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সখ্যতা বজায় রাখার এক অলিখিত ‘প্রতিদান’। ট্রাম্পের ডেরায় ভারতের এই প্রবেশ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নয়াদিল্লির গুরুত্ব যেমন বাড়াবে, তেমনই ট্রাম্পের পরিকল্পনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।