উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ফেলে স্কুল পোশাকেই প্রেমিকের বাইকে সওয়ার ছাত্রী

উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ফেলে স্কুল পোশাকেই প্রেমিকের বাইকে সওয়ার ছাত্রী

সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর: পরীক্ষা দিতে ঢুকেছিলেন ঠিকই, কিন্তু খাতা-পেন ছোঁয়ার আগেই উধাও! পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে থেকে এক ছাত্রীর নাটকীয়ভাবে অন্তর্ধান হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যখন হলের ভেতরে সহপাঠীরা ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত, ঠিক তখনই স্কুল পোশাকে প্রেমিকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন ওই তরুণী।

ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন?

বৃহস্পতিবার সকালে আর পাঁচটা পরীক্ষার্থীর মতোই পরীক্ষা দিতে বেরিয়েছিল ওই ছাত্রী। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল স্থানীয় চাঁদকুড়ি হাই স্কুলে। ছাত্রীর মামা নিজেই তাকে সাইকেলে করে স্কুলের গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে যখন মামা তাকে নিতে আসেন, তখনই ঘটে আসল বিপত্তি। স্কুল ছুটির পর একে একে সব পরীক্ষার্থী বেরিয়ে এলেও ভাগ্নির দেখা না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই সামনে আসে বিস্ফোরক তথ্য। শিক্ষকরা জানান, ওই ছাত্রী সেদিন পরীক্ষাতেই বসেনি! হাজিরা খাতায় তার নামের পাশে ছিল অনুপস্থিতির তকমা।

প্রেমের টানে দ্বিতীয়বার ঘরছাড়া

তদন্ত শুরু হতেই স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী জানা যায়, স্কুল গেটে নামার কিছুক্ষণ পরেই এক যুবকের সঙ্গে তাকে বাইকে করে চলে যেতে দেখা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, এই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও একবার ওই প্রেমিকের সঙ্গেই ঘর ছেড়েছিল সে। সেবার অনেক বুঝিয়ে-সুজিয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং পড়াশোনায় মন দেওয়ার জন্য ফের স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ১৮ বছর ৫ মাস বয়সী ওই ছাত্রীর মাথায় তখন ঘুরছিল অন্য চিন্তা। উচ্চ মাধ্যমিকের বাধা টপকানোর চেয়ে মনের মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধার টানই তার কাছে বেশি জোরালো হয়ে দাঁড়াল।

পরিবারের উদ্বেগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনায় হতবাক ছাত্রীর পরিবার এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে মেয়ে কোথায় আছে, কার সঙ্গে আছে— সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্বজনদের। স্কুল চত্বরে এই ধরণের ঘটনা ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পড়াশোনার মাঝপথে এভাবে হুট করে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় একদিকে যেমন প্রশ্ন উঠছে সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে, অন্যদিকে মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *